‘সহজ কাজ, বেশি আয়’ এমন চাকরির প্রস্তাবেই লুকিয়ে অর্থপাচারের ফাঁদ

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া পুলিশ (SAPOL) সতর্ক করে বলেছে, প্রতারকরা ক্রমবর্ধমানভাবে উচ্চ বেতনের ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের অর্থপাচার চক্রে নিয়োগ করছে।

নতুন ScamWatch-এর তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দারা চাকরি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শত শত প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। এসব প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। কোনো কোনো ব্যক্তি একাই সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হারিয়েছেন।

অপরাধীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নমনীয় সময়ের অনলাইন কাজ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এসব চাকরির বিজ্ঞাপন প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে দেওয়া হয়, আবার সরাসরি ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে, সেখানে অর্থ গ্রহণ করতে অথবা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে বলা হয়।

SAPOL-এর Cybercrime Training and Prevention Section-এর সার্জেন্ট ডেভিড মিচেল বলেন, অতিরিক্ত আয় বা ঘরে বসে কাজের সুযোগ খুঁজছেন—এমন মানুষদেরই প্রতারকরা লক্ষ্য করছে।

তিনি বলেন, “অপরাধীরা এমনভাবে চাকরির প্রস্তাব দিচ্ছে, যা দেখতে বৈধ মনে হয়। কিন্তু প্রকৃত কাজ হচ্ছে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা।”

“কোনো ভুক্তভোগী যখন ওই অর্থ স্থানান্তর করেন, তখন তিনি অজান্তেই অর্থপাচারের একটি চক্রের অংশ হয়ে যান। এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে।”

সার্জেন্ট মিচেল দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রতারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের বিশ্বাস, ভয় এবং তাড়াহুড়োর সুযোগ নেয়।

তিনি বলেন, “কেউ প্রতারণার শিকার হলে তার বিব্রত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা যত দ্রুত বিষয়টি জানতে পারব, তত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব।”

এ বছরের Scams Awareness Week-এর প্রতিপাদ্য—‘No one’s just a number’—অর্থাৎ ‘কেউই শুধু একটি সংখ্যা নয়’। এই বার্তায় জোর দেওয়া হয়েছে যে প্রতিটি ভুক্তভোগী গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি অভিযোগ ভবিষ্যতে আরও ক্ষতি ঠেকাতে সহায়তা করে।

SAPOL-এর ২০২৬ সালের প্রচারণায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের ওপর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ও নতুন ধরনের প্রতারণার প্রবণতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণা, অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে হয়রানি ও অপব্যবহার এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসভিত্তিক প্রতারণা। প্রতারকরা আরও উন্নত কৌশল ব্যবহার করে মানুষকে ঠকানোর কারণে এসব প্রতারণা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতি করে চলেছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া পুলিশ আরও কয়েক ধরনের উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর প্রতারণা দেখতে পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতারণা (romance scam), সহায়তার নামে প্রতারণা (assistance scam) এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে লক্ষ্য করে অর্থপ্রদানের তথ্য পরিবর্তন বা অর্থ অন্যত্র পাঠানোর প্রতারণা (payment redirection scam)।

SAPOL দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে থামতে, যোগাযোগের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে, অস্বাভাবিক পেমেন্ট পদ্ধতি এড়িয়ে চলতে এবং কোনো বিষয় সন্দেহজনক মনে হলে বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করার পরামর্শ দিয়েছে।

ReportCyber-এর মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ করা ক্ষতি সীমিত করা এবং তদন্তে সহায়তার অন্যতম কার্যকর উপায়। চাইলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনেও সরাসরি গিয়ে অভিযোগ করা যায়।

SAPOL-এর Cybercrime Investigation Section জটিল অনলাইন অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা আরও বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করার সক্ষমতাও রয়েছে।

সার্জেন্ট মিচেল বলেন, কেউ যদি ইতোমধ্যে টাকা স্থানান্তর করে থাকেন অথবা নিজের কোনো তথ্য শেয়ার করে থাকেন, তাহলে তাকে অবিলম্বে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাতে হবে এবং অভিযোগ করতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

প্রতারণা বা অনলাইন হয়রানির শিকার হলে সহায়তা

  • eSafety Commissioner – www.esafety.gov.au
  • Victims of Crime SA – www.voc.sa.gov.au
  • Lifeline – 13 11 14 অথবা www.lifeline.org.au
  • Rebuild Victim Counselling – www.rasa.org.au