নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: নিহত ১৫৭, নিখোঁজ শত শত

নেপালের উত্তরাঞ্চলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বোটেকোশি নদী ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিদেশি পর্যটকসহ শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া জেলা এবং বোটেকোশি নদীর তীরবর্তী এলাকা। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জনপদ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং বেশ কয়েকটি সেতু ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও তীর্থযাত্রী অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরের পথে ছিলেন বলে জানা গেছে।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এবিসি নিউজের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারত: ১৪২ জন নাগরিক নিখোঁজ
যুক্তরাষ্ট্র: ৪৭ জন নাগরিক নিখোঁজ
অস্ট্রেলিয়া: ৩৪ জন নাগরিক নিখোঁজ
যুক্তরাজ্য: ৩৩ জন নাগরিক নিখোঁজ
কানাডা: ২৪ জন নাগরিক নিখোঁজ

প্রতিকূল আবহাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে বন্যার সঙ্গে হিমবাহ বা বরফ-শিলা ধসের সম্পর্ক থাকার কথা বলা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বড় ধরনের ভূমিকম্পকে তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে সমর্থন করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আহতদের উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা।

নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও প্রবাসী নেপালি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মানবিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই হতাহতের সংখ্যা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী সরকারি আপডেটকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।