অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন ক্রয়ক্ষমতা রেকর্ড সর্বনিম্নে

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আবাসনের সরবরাহে অর্থবহ বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ক্রয়ক্ষমতার সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে। অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন ক্রয়ক্ষমতা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। দেশের একজন সাধারণ আয়ের পরিবারের পক্ষে বর্তমানে বিক্রি হওয়া প্রতি ১০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র একটির মতো কেনা সম্ভব হচ্ছে। realestate.com.au-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার মধ্যম আয় করা একটি পরিবার গত অর্থবছরে দেশজুড়ে বিক্রি হওয়া বাড়ি ও ইউনিট মিলিয়ে মাত্র ১২ শতাংশ সম্পত্তি কেনার সামর্থ্য রাখে।

সম্পত্তির দামে সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও গত বছর তুলনামূলক বেশি দাম এবং সাম্প্রতিক সুদের হার বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে ২০২৫ অর্থবছরে দেখা যাওয়া ‘সামান্য উন্নতি’ও আবার উল্টে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যাঙ্গাস মুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ানোর ফলে আবাসন ক্রয়ক্ষমতা বড় ধরনের চাপে পড়েছে এবং ঋণের কিস্তিও বেড়েছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও মে মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (RBA) তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির ফলে বন্ধকী ঋণের সুদ বেড়েছে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা আরও সীমিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে বাড়ির দাম যদি আরও কমতে থাকে, তাহলে আবাসন ক্রয়ক্ষমতায় সামান্য উন্নতি হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্রেতার জন্য এটিকে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা বলা কঠিন। ‘আবাসনের সরবরাহে অর্থবহ বৃদ্ধি না হলে ক্রয়ক্ষমতার সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য,’ বলেন তিনি।

প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, একটি পরিবার তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশ বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করবে—এমন ভিত্তি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২.৫ শতাংশ সুদের হার বাফারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের সামান্য বেশি আয় করা একটি পরিবার গত এক বছরে বিক্রি হওয়া মাত্র ১২ শতাংশ বাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার সক্ষমতা রাখে। এই তথ্যের ক্ষেত্রে গড় পারিবারিক আয়ের পরিবর্তে মধ্যম পারিবারিক আয় ব্যবহার করা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একটি দেশে সবচেয়ে কম আয় থেকে সবচেয়ে বেশি আয় পর্যন্ত সাজানো ৯৯টি পরিবার রয়েছে। সেখানে ৫০তম পরিবারের আয়কে মধ্যম আয় বা ‘মিডিয়ান ইনকাম’ বলা হবে। অন্যদিকে গড় আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ৯৯টি পরিবারের মোট আয় যোগ করে ৯৯ দিয়ে ভাগ করা হয়। ফলে কিছু অত্যন্ত ধনী পরিবারের বেশি আয় গড় হিসাবকে ওপরে তুলে দেয়। Grattan Institute-এর HILDA তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার একটি গড় পরিবারের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ডলার।

Source: ABCNEWS