অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অবৈধ তামাক ও ভেপের ব্যবসার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। মঙ্গলবার তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া সব অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে শতাধিক সার্ভিস স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে অবৈধ তামাকজাত পণ্য ও ভেপ বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানে প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের (ABF) নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের ১৫টি সংস্থা অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (AFP), নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স কমিশন।
‘অপারেশন শর্টহ্যান্ড’ নামে পরিচালিত এ অভিযান ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকারের গঠিত Illicit Tobacco National Disruption Group (NDG)-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ তামাকের আমদানি, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের কাস্টমস কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সহকারী কমিশনার টনি স্মিথ বলেন, অবৈধ তামাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে ব্যবসার ধরন বদলাচ্ছে। আগে অবৈধ তামাক বিক্রির জন্য মূলত প্রচলিত তামাকের দোকানগুলোকে ব্যবহার করা হলেও এখন কনভেনিয়েন্স স্টোর, মিল্ক বার এমনকি সার্ভিস স্টেশনও এ ব্যবসার নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। কর্তৃপক্ষের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ও নজরদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলো তাদের সরবরাহ ও বিক্রয়ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। ফলে অবৈধ তামাকের ব্যবসা দমনে শুধু নির্দিষ্ট তামাকের দোকান নয়, অন্যান্য খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও নজরদারির আওতায় আনতে হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের ক্রাইম কমান্ডের সুপারিনটেনডেন্ট জিম রো বলেন, পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী অবৈধ তামাক ব্যবসার সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব গোষ্ঠী অবৈধ তামাক বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ অন্য ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। তাই মঙ্গলবারের অভিযান শুধু অবৈধ তামাক বা ভেপ জব্দ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানতে চাইছে—অবৈধ পণ্যগুলো কোথা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসছে, কারা সেগুলো বিতরণ করছে এবং বিক্রির অর্থ কীভাবে সংগ্রহ ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রায়ান পার্ক বলেন, অবৈধ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। তিনি বলেন, অবৈধ পণ্য বিক্রির কারণে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী ছোট ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কম বয়সী মানুষ ও শিশুদের এসব পণ্যের নাগালের মধ্যে চলে আসার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় তামাক ও ভেপজাত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভেপের ব্যবহার কমানো এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন স্বাস্থ্য ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স জানিয়েছে, মঙ্গলবারের অভিযানে পাওয়া প্রমাণ এখন NDG-এর আওতাভুক্ত বিভিন্ন সংস্থা পর্যালোচনা করছে। তদন্ত চলমান থাকায় অভিযানের আওতায় পড়া কিছু সার্ভিস স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব সার্ভিস স্টেশনকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো সন্দেহভাজন অবৈধ সরবরাহ ও বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
মোটর ট্রেডস অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী সার্ভিস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্স স্টোরগুলোর স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ জরুরি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অস্ট্রেলিয়ান সার্ভিস স্টেশন অ্যান্ড কনভেনিয়েন্স স্টোর অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ABC।
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধ তামাকের বাজার নিয়ে উদ্বেগ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো থেকে স্পষ্ট যে সরকার শুধু অবৈধ পণ্য জব্দ করেই থেমে থাকতে চাইছে না; বরং আমদানি থেকে শুরু করে সরবরাহ, খুচরা বিক্রি এবং অর্থের প্রবাহ—পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সার্ভিস স্টেশনের মতো সহজে মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি অবৈধ তামাক ও ভেপ বিক্রির নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। মঙ্গলবারের সমন্বিত অভিযান সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
Source: ABCNEWS