বাবা, তুমি আমার জীবনের প্রথম পৃথিবী

নাজমীন মর্তুজা : পৃথিবীর ইতিহাসে কিছু বাবা-মেয়ের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের গন্ডি পেরিয়ে উত্তরাধিকারের গল্প হয়ে উঠেছে। কেউ মেয়েকে দিয়েছেন জ্ঞানের উত্তরাধিকার, কেউ স্বাধীন চিন্তার, কেউ স্বপ্ন দেখার সাহস। রবীন্দ্রনাথের পরিবারে মেয়েদের শিক্ষা ও সৃজনশীলতার যে পরিসর তৈরি হয়েছিল, আব্রাহাম লিংকনের পারিবারিক চিঠিপত্রে যে মানবিকতার ছাপ, কিংবা আইনস্টাইনের চিঠিতে কন্যার প্রতি যে মমতা সবই মনে করিয়ে দেয়, একজন বাবা কখনো কখনো মেয়েকে শুধু ভালোবাসেন না তাঁর ভেতরে একটি পৃথিবী নির্মাণ করেন। আমার আব্বাও তাই করেছিলেন। তিনি আমাকে কোনো সম্পত্তির লোভ দেখাননি কোনোদিন। দিয়ে যাবেন বলে কোন প্রতিশ্রুতিও দেন নি । দিয়ে গেছেন রুচি, সাহস, বিচারবোধ আর বড় স্বপ্ন দেখার চোখ। আজ দূর দেশে বসে বুঝি, আমার জীবনের অনেকটা পথ আসলে তাঁর হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল।

আমার প্রথম ডিজাইনার আব্বা
নব্বইয়ের দশক। আমাদের বাসায় আব্বা সানন্দে বা বেগম পত্রিকার স্পেশাল সংখ্যা যেমন পুজো পার্বণের, বিশেষ দিবসের সংঘ্যা গুলো সংগ্রহ করে রাখতেন । আমরা তো শহরে বাস করতাম না তবে গ্রাম হলেও আদর্শ গ্রাম বলা যায় । আব্বা ছিলেন ভীষণ ফ্যাশনসচেতন। পত্রিকা থেকে জামার ডিজাইন কেটে রাখতেন, তারপর সেগুলো দেখে আমার ঈদের জামা বানাতেন। একবার ঈদের আগে আমাকে নিয়ে গেলেন গ্রামের এক দর্জির কাছে। তাঁর কোনো দোকান ছিল না। সোমবারের হাটে আমাদের শহরে বিশাল হাট বসে দুর দুরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এই হাটে যায় । বিশাল নামডাক আছে এই হাটের । গাছতলায় বসে লুঙ্গি সেলাই করতেন। অথচ তার ডিজাইন সেন্স এ হাতের কাজ ছিল অনন্য অসাধারণ। সেদিন আমি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম, আব্বা, ভালো টেইলার্সে না দিয়ে এখানে কেন?
আব্বা হেসে বলেছিলেন, ওরা টেইলার। আর এই মানুষটা ডিজাইনার। ওর হাতের কাজের কাছে বড় বড় টেইলার কিছুই না। তুই দেখে নিস তোর ঈদের জামা হবে আনকমন আর গর্জিয়াস। সেদিন বুঝিনি। আজ বুঝি, আব্বা আমাকে শুধু পোশাকের রুচি শেখাননি। শিখিয়েছিলেন মানুষের মূল্য তার দোকান বা অবস্থানে নয়, তার প্রতিভায়।

আব্বা বাড়িতে না থাকলে আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে ব্যান্ডের গান শুনতাম। একদিন তেমনই গান শুনছি, খাতায় কী যেন লিখছি। হঠাৎ পেছন থেকে আব্বার গম্ভীর কণ্ঠ এগুলো কী শুনছিস? ঘুরে তাকাতেই দেখি, আব্বার মুখ অগ্নিমূর্তি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমার হাত থেকে ক্যাসেটটা ছিনিয়ে নিয়ে সজোরে মেঝেতে আছাড় মারলেন। প্লাস্টিকের ক্যাসেটটা বিকট শব্দে ভেঙে ছড়িয়ে গেল। আমি ভয়ে একেবারে নিশ্চুপ।

আমার গান শোনার কানটাও আব্বার তৈরি
শুধু পোশাকের রুচি নয়, গান শোনার কানটাও আব্বা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমাদের কৈশোরের সময় ব্যান্ডের গানের কী উন্মাদনাই না ছিল মাইলস, সোলস, ডিফারেন্ট টাচ। ক্যাসেট প্লেয়ারে সারাদিন গান বাজত। আব্বা বাড়িতে না থাকলে আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে ব্যান্ডের গান শুনতাম। একদিন তেমনই গান শুনছি, খাতায় কী যেন লিখছি। হঠাৎ পেছন থেকে আব্বার গম্ভীর কণ্ঠ এগুলো কী শুনছিস? ঘুরে তাকাতেই দেখি, আব্বার মুখ অগ্নিমূর্তি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমার হাত থেকে ক্যাসেটটা ছিনিয়ে নিয়ে সজোরে মেঝেতে আছাড় মারলেন। প্লাস্টিকের ক্যাসেটটা বিকট শব্দে ভেঙে ছড়িয়ে গেল। আমি ভয়ে একেবারে নিশ্চুপ।
আব্বা বললেন, এই বাসায় আর এসব গান বাজবে না। গান শুনবি গানের মতো করে শুনবি। ধ্রুপদী শুনবি, খেয়াল-ঠুমরি শুনবি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল, লোকগান, লালন শুনবি। গানের কথা কী বলছে, সুর কোথায় যাচ্ছে, তার ভেতরে কী লুকিয়ে আছে সেটা বুঝতে শিখ। সেদিন আব্বার রাগটা আমার কাছে ছিল ভয়ংকর। আজ বুঝি, সেই রাগের আড়ালেও ছিল গভীর ভালোবাসা। তিনি চেয়েছিলেন, আমার কান শুধু গান শুনুক তা না সাথে গান চিনতেও শিখুক। তারপর থেকে আব্বা মাঝেমধ্যে আমার গানের পরীক্ষা নিতেন। রেডিওতে কোনো গান বাজলে হঠাৎ জিজ্ঞেস করতেন, কে গাইছে? কোন ধরনের গান?
তখন মনে হতো, আব্বা বুঝি আমাকে খুব শাসন করেন। আজ বুঝি, তিনি আসলে আমার ভেতরে একটি শ্রুতিবোধ, একটি রুচি, একটি সংগীতবোধ তৈরি করছিলেন। জীবনে কত গান শুনেছি, কত সুরের ভেতর দিয়ে হেঁটেছি। কিন্তু গান শোনার যে কান সেটা আব্বারই তৈরি করে দেওয়া।

আধুনিক হেয়ার কাট
আমার চুল ছিল খুব ঘন লম্বা। কিন্তু যতœ নিতে পারতাম না। বড় শহর গুলোতে তখন পার্লারও হাতে গোনা। ততটা পার্লারে যেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি আমরা। আব্বা নিজেই গিয়ে শিখে এলেন স্টেপ কাট। তারপর আমার চুলে প্রথম স্টেপ কাট তিনিই দিলেন। কলেজ পর্যন্ত আমার চুল কেটেছেন আব্বা। শ্যাম্পু করে দিয়েছেন । তেল দিয়ে দুই বেনী করে দিতেন আব্বা । দক্ষতার সাথে কিন্তু সবসময় একটা বেনী নিচু আর একটা উঁচু হতো বলে আমার কি যে রাগ হতো । আজ ভাবি, আমার প্রথম হেয়ারস্টাইলিস্টও ছিলেন আমার বাবা। তাঁর হাতে কাঁচি ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল মায়া।

প্রত্যেক বয়সের একটা মুগ্ধতা থাকে, একটা পাগলামি থাকে। তুই মা এখন সেই বয়সটাতে, এটা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তারপর বললেন, কোন ছেলে ভালো, কোন ছেলে খারাপ, কার চোখে সম্মান আছে আর কার চোখে শুধু মুগ্ধতা সেটা বোঝার চোখ তোকেই তৈরি করতে হবে।

প্রথম প্রেমের প্রস্তাব আমার কৈশোরের থ্রিল
কৈশোরে হঠাৎ একদিন একটি ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিল। আমি ভীষণ রেগে গিয়ে আব্বার কাছে অভিযোগ করলাম। ভাবলাম, তিনি রাগ করবেন। আচ্ছা করে ছেলেটাকে ধোলাই দেবেন ।তার বাবার কাছে নালিশ দেবেন। কিন্তু আব্বা বললেন, প্রত্যেক বয়সের একটা মুগ্ধতা থাকে, একটা পাগলামি থাকে। তুই মা এখন সেই বয়সটাতে, এটা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তারপর বললেন, কোন ছেলে ভালো, কোন ছেলে খারাপ, কার চোখে সম্মান আছে আর কার চোখে শুধু মুগ্ধতা সেটা বোঝার চোখ তোকেই তৈরি করতে হবে। তিনি আমাকে ভয় দেখাননি, নিষেধের দেয়ালও তোলেননি। বলেছিলেন, আমার কাছে বলতে ইচ্ছা করলে বলবি। না হলে নিজেই সামলাবি। জীবন তোকে নিজেকেই চিনতে হবে। আজ বুঝি, সেদিন তিনি আমাকে প্রেমের শিক্ষা দেননি। মানুষ চেনার শিক্ষা দিয়েছিলেন।

প্রথম সাইকেল রাইডের ঘটনা
প্রথম সাইকেল চালানো শেখার পর আমার খুব শখ হলো, আব্বাকে পেছনে বসিয়ে আমি চালাব। একদিন বললাম,
আব্বা, তুমি ওঠো। তিনি উঠলেন। আমি আনন্দে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর পেছনটা কেমন হালকা লাগল। আব্বাও কোনো কথা বলছেন না। পেছনে তাকিয়ে দেখি আব্বা ধুলোর মধ্যে পড়ে আছেন! আমি সাইকেল ফেলে দৌড়ে গিয়ে বললাম,আব্বা, ব্যথা পেয়েছ? তিনি ধুলোমাখা অবস্থায় শুয়েই হাসতে হাসতে বললেন, আর একটু হলে তো ট্রাক এসে আমাকে পিষেই দিত!
আজও সেই দৃশ্য মনে পড়লে হাসি পায়। মেয়ের আনন্দের জন্য বাবারা কখনো কখনো পড়ে গিয়েও হাসেন। একটা রিকশা আর আব্বার একটা ভবিষ্যদ্বাণী আমি যেন একা স্কুলে ও প্রাইভেটে যাতায়াত করতে পারি, আব্বা আমাকে একটা রিকশা কিনে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আজ থেকে তোর জীবনের সঙ্গে একটা রিকশা জুটে গেল। তারপর যেন ভবিষ্যৎ দেখে বলেছিলেন, একদিন তুই নিজেই গাড়ি চালাবি। গাড়ি চালিয়ে গোটা পৃথিবী ঘুরবি। আজ সত্যিই আমি গাড়ি চালাই। বাবাদের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হতে একটু সময় লাগে।

বইপড়া আর বড় স্বপ্ন দেখার চোখ আব্বার খুলে দেওয়া
গল্পের বই পড়ার নেশাটাও আব্বার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি আমাকে শুধু গল্পের বই নয়, বিখ্যাত মানুষের জীবনীও কিনে দিতেন। বলতেন, বড় বড় মানুষের জীবনী পড়বি। স্বপ্ন বড় হবে। তাদের জীবন আদর্শ নিজের মধ্যে ধারন করতে পারবি। আর বলতেন, বড় শহর দেখবি, বড় বিল্ডিং দেখবি, ভালো বাড়ি দেখবি। মানুষের স্বপ্নও বড় হবে। তখন কথাগুলো ছিল বাবার সাধারণ উপদেশ। আজ বুঝি, তিনি আসলে আমার পৃথিবীর সীমানা বড় করে দিচ্ছিলেন।

বিয়ের পরও আমি সেই আব্বার ছোট্ট মেয়ে
বিয়ের পরেও আব্বার কাছে আমি বড় হয়ে উঠিনি। শীতের রাতে আমি আর আমার হাসব্যন্ড ঘুমিয়ে আছি। আব্বা দরজায় নক করে ঢুকে দেখতেন আমাদের পা ঠা-া হয়ে আছে কি না। কয়েল নিভে গেছে কিনা। মশারি ঠিকঠাক আছে কিনা ? আমাদের পায়ে হাত দিয়ে দেখতেন ঠান্ডা লাগছে কি না। আমার হাসব্যন্ড অবাক হয়ে বলত, তোমার বাবা এমন কেন? আজ বুঝি, কারণের নাম ছিল মায়া। আব্বার কাছে আমার হাসব্যান্ড কখনো আলাদা কেউ ছিলেন না। আমি যেমন তাঁর সন্তান, সেও তেমন। এমনটাই ভাবেন তিনি। বাবার মায়া সম্পর্কের হিসাব মানে না।

আমার প্রথম মাতৃত্বের দিনগুলো
আমার প্রথম সন্তান যখন আমার গর্ভে, মনে হতো এই যাত্রায় আমি একা নই। আমার সঙ্গে আব্বাও হাঁটছেন।আমি পা একটু তুলে শুলে তিনি পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে দিতেন। নিজের হাতে মাথায় তেল দিতেন। কী খাব, কখন খাব, শরীর কেমন সবকিছুর দিকে তাঁর নজর। আমি শুধু বলতাম, আব্বা শরীরটা একটু খারাপ লাগছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসতেন। তাঁর নিজের বয়সটাকে যেন কখনো মনে রাখতেন না। শুধু মনে রাখতেন, তাঁর মেয়েটার যেন কিছু না হয়। সেই সন্তানকে আমি হারিয়েছিলাম। কিন্তু সেই কঠিন সময়ের সবচেয়ে কোমল স্মৃতিগুলোর মধ্যে রয়ে গেছে আব্বার সেই যতœ মাথায় তাঁর হাত, পায়ের নিচে বালিশ, আর অস্থির কণ্ঠে বারবার জিজ্ঞেস করা, কী লাগবে?

ভালোবাসার ছোট ছোট কাজ গুলো
কলেজ পর্যন্ত আব্বা আমার নখ কেটে দিয়েছেন। রান্না করে খাইয়েছেন। মাথায় ঝুঁটি করে দিয়েছেন। তখন এসবকে আলাদা করে ভালোবাসা বলে চিনিনি। এগুলোই তো ছিল আমার স্বাভাবিক জীবন। এখন বুঝি, ভালোবাসা সবসময় বড় কোনো ঘোষণায় আসে না। কখনো একটি কাঁচি হাতে আসে। কখনো একটি বালিশ পায়ের নিচে এসে ঠেকে। কখনো একটি বই হাতে তুলে দেওয়া হয়। কখনো ধুলোর মধ্যে পড়ে থাকা একজন বাবা হেসে বলেন, আর একটু হলে ট্রাকটা আমাকে পিষেই দিত!

এখন বুঝি শৈশবে মনে হয়, বাবা থাকবেনই। তাঁর কণ্ঠ থাকবে, তাঁর বকুনি থাকবে, তাঁর হাত থাকবে মাথার ওপর।
তারপর জীবন আমাদের দূরে নিয়ে যায়। দেশ বদলায়, ঘর বদলায়, ঠিকানা বদলায়। আর তখনই বোঝা যায়, বাবার উপস্থিতি আসলে কত বড় একটি আশ্রয় ছিল। দূর দেশে বসে আজ যখন কোনো ছোট্ট অসুবিধায় নিজেকেই নিজে সামলাতে হয়, মনে পড়ে যায় সেই মানুষটির কথা, যিনি আমার সামান্য উফ শব্দটাকেও গুরুত্ব দিতেন।

মনে পড়ে যায় গাছতলার সেই দর্জি। সানন্দা থেকে কেটে রাখা ডিজাইন। আমার চুলে আব্বার কাঁচি। ক্যাসেট ভেঙে ফেলা সেই অগ্নিমূর্তি। রেডিওর সামনে নেওয়া গানের পরীক্ষা। প্রথম প্রেমের দিনে তাঁর শান্ত শিক্ষা। সাইকেলের ধুলোর মধ্যে তাঁর হাসি। একটি রিকশার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী। বইয়ের পাতায় বড় স্বপ্ন দেখানোর শিক্ষা। আর আমার গর্ভাবস্থায় পায়ের নিচে রাখা সেই বালিশ।

তবু আমার ভেতরে সেই ছোট্ট মেয়েটা রয়ে গেছে, যে একদিন সাইকেল চালিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখেছিল আব্বা নেই! আজও মনে হয়, আমি যত দূরেই যাই, পেছনে তাকালে তাঁকে দেখতে পাব। ধুলোমাখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হেসে বলছেন, চালিয়ে যা। আমি আছি। হয়তো এটাই বাবা! তাঁরা একদিন আমাদের হাত ছেড়ে দেন, কিন্তু এমনভাবে সাহস দিয়ে যান যে, সারাজীবন আমরা মনে করি পেছনে ফিরে তাকালেই বাবা আছেন। বাবা, তুমি আমার জীবনের প্রথম পৃথিবী। আর আমি যত পৃথিবীই দেখি, তোমার পৃথিবীর মতো আর কোনো পৃথিবী দেখি না।

সবকিছু মিলিয়ে আজ বুঝি, আমার আব্বা আমাকে শুধু বড় করেননি। তিনি আমার পৃথিবীটা বড় করে দিয়েছিলেন। আমার স্বপ্নের সীমানা বাড়িয়েছিলেন। মানুষ চেনার চোখ দিয়েছিলেন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছিলেন। আর এমন এক ভালোবাসা দিয়েছিলেন, যার মূল্য আমি সবচেয়ে বেশি বুঝেছি দূরে এসে। আজ আমি গাড়ি চালাই। পৃথিবীর পথে চলি। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিই। তবু আমার ভেতরে সেই ছোট্ট মেয়েটা রয়ে গেছে, যে একদিন সাইকেল চালিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখেছিল আব্বা নেই! আজও মনে হয়, আমি যত দূরেই যাই, পেছনে তাকালে তাঁকে দেখতে পাব। ধুলোমাখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হেসে বলছেন, চালিয়ে যা। আমি আছি। হয়তো এটাই বাবা! তাঁরা একদিন আমাদের হাত ছেড়ে দেন, কিন্তু এমনভাবে সাহস দিয়ে যান যে, সারাজীবন আমরা মনে করি পেছনে ফিরে তাকালেই বাবা আছেন। বাবা, তুমি আমার জীবনের প্রথম পৃথিবী। আর আমি যত পৃথিবীই দেখি, তোমার পৃথিবীর মতো আর কোনো পৃথিবী দেখি না।

বাবা দিবসের বিশেষ সংখ্যাটি ডাউনলোড লিংক : Father_AK_small

One thought on “বাবা, তুমি আমার জীবনের প্রথম পৃথিবী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *