অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আজ, ১৩ আগস্ট, উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে ওয়ান নেশন পার্টি এবং দলটির নেতা পলিন হ্যানসনের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেডসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশ করে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
‘Students Say No to Hanson’ নামে আয়োজিত এই দেশব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অস্ট্রেলিয়া এমন একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ যেখানে অভিবাসী, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা থাকা উচিত।
অ্যাডিলেডেও ব্যাপক অংশগ্রহণ: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৪০টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অ্যাডিলেডের পার্লামেন্ট হাউসের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা রাস্তায় মিছিল করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে।
অ্যাডিলেডের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড। তাদের মূল বক্তব্য ছিল—অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ যেন বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার নতুন বার্তা
এই বিক্ষোভ শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়—আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন এবং স্কুলের পরিবর্তে অন্য বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা মনে করছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছে। তাদের মতে, তরুণদের ভবিষ্যৎ যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গড়ে উঠবে, সে বিষয়ে তাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে।
১৩ আগস্টের এই দেশব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভ অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং বর্ণবাদ ও বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।