সকালে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিকেলে নিয়ে আসার সময় স্কুলের সামনে যানজট, ব্যস্ততা আর শিশুদের ছুটোছুটি—এ দৃশ্য দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রায় প্রতিটি স্কুলেই পরিচিত। এই ব্যস্ত সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে স্কুলসংলগ্ন প্রধান সড়কে নতুন সময়ভিত্তিক গতিসীমা চালু করছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ে এসব সড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো ও পরিবহন বিভাগ (Department for Infrastructure and Transport) জানিয়েছে, যেসব প্রধান সড়কে বর্তমানে গতিসীমা ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি, সেসব স্থানে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ধাপে ধাপে ১৬৫টিরও বেশি স্কুলসংলগ্ন সড়কে নতুন সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। প্রতিটি স্থানে সাইন স্থাপনের দিন থেকেই নতুন গতিসীমা কার্যকর হবে।
স্কুল চলাকালীন দিনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। তবে এই নিয়ম শনিবার, রোববার, সরকারি ছুটি এবং স্কুলের ছুটির সময় প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা ‘Children Present – 25 km/h’ স্কুল জোনের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ যেখানে শিশু উপস্থিত থাকলে ২৫ কিলোমিটার গতিসীমা কার্যকর হয়, সেখানে সেই নিয়মই বহাল থাকবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের গতি সামান্য কমলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হয়। তারা হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারে কিংবা পার্ক করা গাড়ির আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তাই স্কুল শুরু ও ছুটির সময় যানবাহনের গতি কমিয়ে আনা শিশুদের নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে স্কুল এলাকার ভেতর দিয়ে চলাচল করেন। অনেকে আবার সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়াও করেন। ফলে নতুন এই নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে যেসব চালক দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রাস্তায় ৫০ বা ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে অভ্যস্ত, তাদের এখন নতুন সময়সূচি অনুযায়ী গতি কমাতে হবে। সড়কের পাশে স্থাপিত সময়ভিত্তিক গতিসীমার সাইনবোর্ড খেয়াল করা এবং স্কুল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো গুরুত্বপূর্ণ।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্কুল এলাকার গতিসীমা লঙ্ঘন করলে শুধু জরিমানাই নয়, চালকের ডিমেরিট পয়েন্টও কাটা যেতে পারে। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রতিটি চালকেরই সাইনবোর্ডের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে পর্যায়ক্রমে ১৬৫টির বেশি স্কুলের সামনে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ফলে সব এলাকায় একই দিনে নিয়ম কার্যকর হবে না। যে স্কুলে সাইনবোর্ড স্থাপন সম্পন্ন হবে, সেদিন থেকেই সেখানে নতুন গতিসীমা কার্যকর হবে। কোন কোন স্কুল এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো ও পরিবহন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিভাগটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিশুদের নিরাপদে স্কুলে আসা-যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্কুলসংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও কমিয়ে আনা।
আরও তথ্যের জন্য: ফোন: 1300 794 880 ইমেইল: DIT.Engagement@sa.gov.au ওয়েবসাইট: www.dit.sa.gov.au/40km-schools
তথ্যসুত্র: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া অবকাঠামো ও পরিবহন বিভাগ