অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে থাকা পরিবারকে নিজের কাছে এনে মাত্র দুই মাস একসঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন দুই সন্তানের বাবা শরৎ মোহানদাস। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। টেসলা মডেল ওয়াই (Tesla Model Y) কেনার আনন্দ উদযাপনের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পরই প্রাণ হারান তিনি। গত ১৯ জুলাই রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে ব্রিসবেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রুকওয়াটারের (Brookwater) অগাস্টা পার্কওয়ে ও ম্যাগনোলিয়া ড্রাইভের সংযোগস্থলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, একটি টেসলা মডেল ওয়াই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা ছেড়ে একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। ৩৭ বছর বয়সী শরৎ মোহানদাস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুর পর অনলাইন তহবিল সংগ্রহের (GoFundMe) একটি প্রচারণায় আবেগঘন বার্তায় তাঁর স্ত্রী সিথারা শিবদাসন লেখেন, ‘তিনি শুধু আমার স্বামী ছিলেন না, ছিলেন আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, আমাদের দুই ছোট সন্তানের স্নেহময় বাবা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।’
কেরালায় সরকারি চাকরি ছেড়ে দুই সন্তান—১০ ও ৪ বছর বয়সী—কে নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন সিথারা। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর অবশেষে পরিবারটি একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়েছিল। সিথারা লিখেছেন, ‘আমরা অবশেষে একটি পরিবার হিসেবে একসঙ্গে থাকতে পারব—এই আশায় আমি আমার নিরাপদ সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ ‘অগাস্টিন হাইটসে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলাম। নতুন জীবনের অসংখ্য স্বপ্ন ছিল আমাদের। কিন্তু এখন সেই পৃথিবী ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, এমনভাবে ভেঙে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এক মুহূর্তেই আমার সন্তানরা তাদের স্নেহময় বাবাকে হারিয়েছে, আর আমি হারিয়েছি আমার জীবনসঙ্গীকে।’
দুর্ঘটনার মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে পরিবারটি নতুন একটি টেসলা মডেল ওয়াই কিনেছিল। ১৩ জুন ফেসবুকে গাড়িটি গ্রহণের একটি ভিডিও শেয়ার করে সিথারা লিখেছিলেন, ‘আমাদের পরিবারের নতুন সদস্যকে স্বাগত!’ তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘বাচ্চারা গাড়ির স্ক্রিন নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত। তবে গ্যারেজে টেসলার লাইট শো-ই সবার মন কেড়ে নিয়েছে।’ বর্তমানে শরৎ মোহানদাসের মরদেহ ভারতের কেরালার ত্রিশূরে (Thrissur) নিয়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন সিথারা। এই তহবিলের অর্থ দিয়ে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ভারতেও ফিরে যেতে চান, যাতে এই অকল্পনীয় শোকের সময়ে স্বজনদের পাশে থাকতে পারেন।
আবেগঘন বার্তার শেষদিকে তিনি লেখেন, ‘শরৎকে হারানোর যে কষ্ট, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পৃথিবীর কোনো অর্থই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।’ ‘এই অন্ধকার সময়ে আমাদের জন্য যাঁরা প্রার্থনা করেছেন, সহমর্মিতা দেখিয়েছেন এবং আর্থিক সহায়তা করেছেন—তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহায়তায় আমরা তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং আমাদের সন্তানদের যত্ন নিতে মনোযোগ দিতে পারছি।’
Source: 7news