এক ক্লিকে দেশি বাজার—অস্ট্রেলিয়ায় তিন বাংলাদেশির BAAZAR

দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বসবাস করলেও রান্নাঘরের অভ্যাসটা অনেক সময় বদলায় না। ভাতের সঙ্গে দেশি মাছ, রান্নায় পরিচিত মসলা, সপ্তাহান্তে হালাল মাংস কিংবা আলমারিতে রাখা বাংলাদেশের কোনো প্রিয় খাবার—প্রবাসের জীবনেও এসবের চাহিদা থেকে যায়। কিন্তু চাহিদা থাকলেই তো আর পণ্য হাতের কাছে পাওয়া যায় না। কোনো দোকানে চাল-মসলা আছে, কিন্তু মাছ নেই। কোথাও হালাল মাংস পাওয়া গেলেও পছন্দের দেশি পণ্য নেই। আবার নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের জন্য শহরের অন্য প্রান্তে যেতে হয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী কিংবা পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকা মানুষের জন্য বাজার করার এই প্রক্রিয়া অনেক সময় হয়ে ওঠে সময়সাপেক্ষ। এই বাস্তবতা থেকেই তিন বাংলাদেশি তরুণের মাথায় আসে একটি প্রশ্ন—‘মানুষ যদি একটি জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি, হালাল মাংস ও অন্যান্য পণ্য খুঁজে, অর্ডার করে বাসায় পেতে পারে, তাহলে কেন তাকে একাধিক দোকানে যেতে হবে?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যাত্রা শুরু BAAZAR-এর।

ব্যস্ত কর্মজীবন, পড়াশোনা, পরিবার ও দৈনন্দিন নানা দায়িত্বের মধ্যে এই কেনাকাটা অনেকের জন্য সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। এই বাস্তব সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে মেলবোর্নে যাত্রা শুরু করেছে BAAZAR একটি প্রযুক্তিনির্ভর এথনিক গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য শুধু ঘরে বসে গ্রোসারি পৌঁছে দেওয়া নয়। স্থানীয় এথনিক গ্রোসারি ব্যবসা ও সরবরাহকারীদের ডিজিটাল জগতের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বড় অনলাইন বাজার তৈরি করতে চান তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, এটি শুধু ডেলিভারি ব্যবসা নয়; বরং গ্রাহকের সুবিধা এবং স্থানীয় ব্যবসার ডিজিটাল সম্ভাবনাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার একটি উদ্যোগ।

“প্রবাসে দেশি বাজারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে চাইছেন তিন বাংলাদেশি তরুণ—তাঁদের ভাবনা, বাজার শুধু মানুষ করবে না; প্রযুক্তিও মানুষের দরজায় বাজার পৌঁছে দিতে পারে।”

BAAZAR একটি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর এথনিক গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য দক্ষিণ এশীয়, হালাল এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবারের দৈনন্দিন গ্রোসারি কেনাকাটাকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং সুবিধাজনক করা। বর্তমানে BAAZAR-এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি, হালাল মাংস, মাছ, ফ্রোজেন খাবার, মসলা, প্যান্ট্রি পণ্য এবং অন্যান্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনলাইনে অর্ডার করে বাসায় ডেলিভারি নিতে পারেন। BAAZAR-এর লক্ষ্য শুধু আরেকটি অনলাইন গ্রোসারি দোকান তৈরি করা নয়। উদ্যোগতারা এমন একটি ডিজিটাল গ্রোসারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গ্রাহক, স্থানীয় এথনিক গ্রোসারি ব্যবসা, সরবরাহকারী এবং ডেলিভারি নেটওয়ার্ক একটি সমন্বিত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারে। লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশীয় ও হালাল গ্রোসারিকে অস্ট্রেলিয়ার পরিবারগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সতেজ এবং নির্ভরযোগ্য করা। দীর্ঘমেয়াদে BAAZAR-কে দক্ষিণ এশীয়, হালাল এবং বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির জন্য অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

BAAZAR তিনজন বাংলাদেশি তরুণের যৌথ উদ্যোগ: তিনজনের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ব আলাদা হলেও লক্ষ্য একটাই: প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ায় এথনিক গ্রোসারি কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও ভালো করা। প্রযুক্তি, পণ্য, কার্যক্রম, ডেটা, অর্থায়ন, বিপণন, সরবরাহকারী ব্যবস্থাপনা এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই টিম BAAZAR-এর যাত্রায় অবদান রাখছে। BAAZAR বিশ্বাস করে, একটি স্টার্টআপ কখনো শুধু প্রতিষ্ঠাতাদের মাধ্যমে তৈরি হয় না। BAAZAR-এর প্রতিটি ছোট অর্জনের পেছনে আমাদের টিম, খুচরা ব্যবসায়িক অংশীদার, সরবরাহকারী, ডেলিভারি অংশীদার এবং গ্রাহকদের সম্মিলিত অবদান রয়েছে।

Md Nahid Tanjum – Founder & CEO: Nahid BAAZAR-এর সামগ্রিক লক্ষ্য, ব্যবসায়িক কৌশল, প্রবৃদ্ধি, অংশীদারত্ব এবং ব্যবসা উন্নয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এবং প্রযুক্তি, ডেটা ও ব্যবসায়িক কৌশল ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরিতে কাজ করছেন।

MD Riadul Hasan – Co-Founder & CTO: Riad BAAZAR-এর প্রযুক্তি ও পণ্য উন্নয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। BAAZAR-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সফটওয়্যার সিস্টেম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ এবং উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি প্ল্যাটফর্মের scalability, performance ও user experience নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

Mahabub Jamil Chowdhury Ovi – Co-Founder & COO: Ovi BAAZAR-এর কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্ডার সম্পন্ন করা, কার্যক্রম সমন্বয় এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা পরিচালনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দৈনন্দিন পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের পরিবারগুলোর রান্নাঘরে অনেক সময় এমন পণ্য প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ সুপারমার্কেটে সহজে পাওয়া যায় না। মসলা, চাল, ডাল, ফ্রোজেন খাবার, মাছ, হালাল মাংস থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সবকিছুর জন্য আলাদা দোকানে যেতে হয় অনেককে। BAAZAR-এর ধারণার পেছনে রয়েছে এই অভিজ্ঞতাই। প্রতিষ্ঠাতাদের পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় অনেক এথনিক গ্রোসারি ব্যবসার ভালো পণ্য থাকলেও তাদের শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি নেই। ফলে এসব ব্যবসা সম্ভাব্য নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। অন্যদিকে গ্রাহকেরাও জানেন না, কোন দোকানে তাঁদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি আছে। এই দুই সমস্যার মাঝখানে একটি ডিজিটাল সেতু তৈরির চেষ্টা করছে BAAZAR।

BAAZAR নিজেদের প্রচলিত অর্থে একটি গ্রোসারি দোকান হিসেবে দেখতে চায় না। এর লক্ষ্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে একাধিক স্থানীয় দোকান ও সরবরাহকারী যুক্ত হতে পারবেন। দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি, হালাল মাংস, তাজা মাছ, ফ্রোজেন পণ্য, মসলা, প্যান্ট্রি পণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মডেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় ব্যবসাকে যুক্ত করা। একটি নির্দিষ্ট দোকানের পণ্য বিক্রির বদলে স্থানীয় এথনিক গ্রোসারি ব্যবসা ও সরবরাহকারীদের ডিজিটাল গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় BAAZAR। অর্থাৎ গ্রাহকের জন্য এটি হতে পারে এক জায়গায় কেনাকাটার সুবিধা, আর ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য হতে পারে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর একটি ডিজিটাল দরজা।

BAAZAR-এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো পণ্য নির্বাচনে কমিউনিটির বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া। দক্ষিণ এশীয় পরিবার কোন পণ্য বেশি কেনে, কোন ধরনের মাছ বা মাংসের চাহিদা রয়েছে, কোন মসলা নিয়মিত প্রয়োজন হয় কিংবা কোন পণ্য অনলাইনে পাওয়া কঠিন এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের পরিসর তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে শত শত পণ্য রয়েছে। গ্রাহকেরা অনলাইনে পণ্য নির্বাচন করে অর্ডার করতে পারেন এবং BAAZAR-এর ডেলিভারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তা বাসায় পেতে পারেন। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোই BAAZAR-এর প্রধান গ্রাহকগোষ্ঠী। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বড়। প্রতিষ্ঠাতারা দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির বাইরেও অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক বাজারে পৌঁছাতে চান।

BAAZAR-এর পরিকল্পনায় প্রযুক্তির ভূমিকা শুধু অনলাইন অর্ডার নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রাহকের কেনাকাটার ধরন, কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কখন কোন পণ্য বেশি প্রয়োজন হয় এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কেনাকাটার অভিজ্ঞতা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

এর মাধ্যমে একজন গ্রাহকের প্রয়োজনীয় পণ্য খুঁজে পাওয়া যেমন সহজ হতে পারে, তেমনি ব্যবসাগুলোও চাহিদা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও অর্ডার ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ অনলাইন গ্রোসারির অন্যতম বড় সমস্যা হলো ওয়েবসাইটে কোনো পণ্য ‘available’ দেখালেও বাস্তবে দোকানে সেটি না থাকা। BAAZAR এই ব্যবধান কমিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা দিতে চায়।
গ্রোসারি ব্যবসা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে সেটি অনেক বেশি জটিল। বিশেষ করে তাজা মাছ, মাংস ও ফ্রোজেন পণ্যের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। একটি অর্ডার পাওয়ার পর শুধু পণ্যটি সংগ্রহ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পণ্যের প্রাপ্যতা, দাম, মান যাচাই, সংগ্রহ, প্যাকিং, সংরক্ষণ এবং সময়মতো ডেলিভারি—প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে পরিচালনা করতে হয়। তাজা পণ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রত্যাশাও বেশি। তাই

BAAZAR-এর কাছে দ্রুত ডেলিভারির পাশাপাশি সঠিক পণ্য, সঠিক মান এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করাই বড় বিষয়। প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, এই পুরো প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আরও দক্ষ করে তোলাই তাঁদের সবচেয়ে বড় কাজগুলোর একটি।

BAAZAR এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপ। তাই বড় সংখ্যার পেছনে ছুটে দ্রুত সম্প্রসারণের চেয়ে ব্যবসার ভিত্তি শক্ত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাস্তব গ্রাহকের অর্ডার ও মতামত তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শেখার উৎস। কতগুলো অর্ডার হয়েছে, সেটিই তাঁদের কাছে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। একজন গ্রাহক আবার BAAZAR-এ ফিরে আসছেন কি না, কোন পণ্য বারবার খুঁজছেন, ডেলিভারি নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উদ্যোক্তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য, কার্যকর এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে চান।

গ্রোসারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে শুধু পণ্য পাওয়া নয়, সময়মতো এবং নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্য হাতে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেলবোর্নে ডেলিভারি কভারেজ সম্প্রসারণ BAAZAR-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। BAAZAR-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় ধাপ হলো মেলবোর্নের মডেলকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রধান শহরে নিয়ে যাওয়া। তবে উদ্যোক্তারা এটিকে শুধু একটি শহর থেকে আরেক শহরে ব্যবসা সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের লক্ষ্য এমন একটি মডেল তৈরি করা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শহরের বাজারে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়।

মেলবোর্নে ব্যবসায়িক মডেল, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, গ্রাহকসেবা ও ডেলিভারি কাঠামো সফলভাবে যাচাই করার পর পর্যায়ক্রমে অন্য শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে BAAZAR নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বিশ্বস্ত প্রযুক্তিনির্ভর বহুসাংস্কৃতিক গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

BAAZAR-এর স্বপ্নের সবচেয়ে মানবিক দিকটি সম্ভবত এখানেই। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী একজন অভিবাসী যেন নিজের সংস্কৃতি ও কমিউনিটির পরিচিত খাবার এবং গ্রোসারি পণ্য সহজে খুঁজে পান এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে চান উদ্যোক্তারা। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী সমাজ ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কান, নেপালি, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন কমিউনিটির নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি রয়েছে। সেই বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সম্ভাবনাই BAAZAR-এর দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার কেন্দ্রে।

BAAZAR-এর যাত্রায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকার কথাও আলাদাভাবে তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। একটি প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপের জন্য প্রথম দিকের গ্রাহক, পরিচিতদের কাছে সুপারিশ, গঠনমূলক মতামত এবং মুখে মুখে প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। BAAZAR-এর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে পাওয়া সমর্থন ও উৎসাহকে উদ্যোক্তারা তাঁদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্যে, কমিউনিটির কাছ থেকে পাওয়া মতামত শুধু উৎসাহ দেয়নি; বরং পণ্য ও সেবাকে আরও ভালো করার সুযোগও তৈরি করেছে।

BAAZAR-এর গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন প্রজন্মের অভিবাসীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া। উদ্যোক্তাদের বার্তা, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণদের সবাইকে উদ্যোক্তা হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। কেউ গবেষণা করবেন, কেউ প্রযুক্তি তৈরি করবেন, কেউ পেশাগত জীবনে নেতৃত্ব দেবেন, আবার কেউ ব্যবসা গড়ে তুলবেন। তবে তাঁরা মনে করেন, কমিউনিটির আরও বেশি মানুষ শুধু বিদ্যমান সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি নতুন সুযোগ তৈরির সাহসও দেখাতে পারেন। একটি ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করা, সমস্যাকে নতুনভাবে দেখা এবং সেই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করার মধ্যেও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। BAAZAR-এর উদ্যোক্তাদের কাছে নিজেদের যাত্রার সাফল্য তাই শুধু ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের মতে, তাঁদের এই পথচলা যদি বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকজন তরুণকে নিজের একটি ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করার সাহস দেয়, সেটিও হবে বড় অর্জন।

BAAZAR-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত একটি প্রযুক্তি কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসী জীবনের পরিচিত বাস্তবতা, কমিউনিটির প্রয়োজন, প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। মেলবোর্নে একটি শক্তিশালী মডেল তৈরি করা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরে পৌঁছানো পথটি সহজ নয়। এথনিক গ্রোসারি ব্যবসাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা, পণ্যের প্রাপ্যতা ও মজুতের সমন্বয়, নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে বাস্তব চ্যালেঞ্জ। তারপরও BAAZAR-এর উদ্যোক্তারা বড় পরিসরে ভাবছেন।

তাঁদের চোখে এটি শুধু গ্রোসারি ডেলিভারির গল্প নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অভিবাসী উদ্যোক্তাদের গল্প যাঁরা নিজেদের কমিউনিটির একটি পরিচিত সমস্যা দেখেছেন এবং সেটিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

আজ মেলবোর্ন। আগামীতে হয়তো সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অন্য কোনো শহর। স্বপ্নটা তাই একটি শহরকে ঘিরে নয়—একটি এমন অস্ট্রেলিয়াকে ঘিরে, যেখানে দূরদেশে বসবাস করেও মানুষ নিজের সংস্কৃতির পরিচিত স্বাদটুকু সহজেই খুঁজে পাবে।

ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ওয়েবসাইট: https://www.baazar.com.au
ফেসবুক: https://www.facebook.com/profile.php?id=61592075753627
ইনস্টাগ্রাম: https://www.instagram.com/baazar.au