দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন ও আর্থিক লেনদেন সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডুয়েল কারেন্সি (দ্বৈত মুদ্রা) সুবিধাসংবলিত এই কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। জানা গেছে, প্রবাসী কার্ডের প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’ ইস্যু করা হবে। বাংরাদেশে সরকার চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে অন্তত ১০টি বিশেষ নাগরিক ও আর্থিক সুবিধা পাবেন। উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো:
• বিমানবন্দরে বিশেষ সেবা: দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি (বিনামূল্যে) এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ বুথের মাধ্যমে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও মিট-অ্যান্ড-গ্রিট সেবা দেওয়া হবে।
• টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়: বিমান টিকিট কেনা ও হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা থাকবে।
• চিকিৎসা সুবিধা: সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য ডেডিকেটেড সেবা বুথ এবং নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ মূল্যছাড় মিলবে।
• আর্থিক প্রণোদনা ও ঋণ: সরাসরি অর্থ প্রেরণ ও সহজ লেনদেনের সুবিধার পাশাপাশি থাকছে রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা।
• জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন: প্রবাসফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসন সুবিধা, ইন্স্যুরেন্স বা বিমা সুবিধা এবং প্রবাসী কার্ডধারী কেউ বিদেশে মারা গেলে তার মরদেহ বিনামূল্যে দেশে পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।
• সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি (মিউটেশন) এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি ও লাইসেন্সিং সেবায় কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।