অভিযান জোরদার, বাড়ছে ঝুঁকি: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ সিগারেট

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অবৈধ তামাক ও ভেপ বিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযান নতুন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে কম দামে বিক্রি হওয়া অবৈধ সিগারেটের দাম এখন বাড়তে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এটি প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ধারাবাহিক অভিযান কালোবাজারি তামাক ব্যবসার ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করছে। এক বছর আগে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধ তামাক ও ভেপ বিক্রির বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর আইন চালু করা হয়। এরপর থেকে ভোক্তা ও ব্যবসা বিষয়ক বিভাগ এবং পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ পণ্য বিক্রির অভিযোগে ২২৮টি দোকানকে ২৮ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের ভোক্তা ও ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল ব্রাউন বলেন, অবৈধ তামাক ব্যবসায় এখন দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে ব্যবসায়ীরা আগের মতো সহজে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকান মালিকরা এখন বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কনজ্যুমার অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিসেস কমিশনার ব্রেট হামফ্রে বলেন, অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন যে যেকোনো সময় তাদের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই তারা আগের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
তবে অবৈধ তামাক ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার পর মালিকরা অন্য এলাকায় নতুন নাম ও নতুন লাইসেন্সে আবার ব্যবসা শুরু করছেন। ফলে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় দৈনিক ধূমপায়ীর হার ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে ভেপ ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে দৈনিক ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে।
সরকার আরও দাবি করেছে, অবৈধ তামাক বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস অপরাধের ঘটনাও কমেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপহরণের মতো অপরাধ আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে বলে মন্ত্রী ব্রাউন জানিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

অবৈধ তামাক ব্যবসার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াকে অতিরিক্ত ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে। এই অর্থ আইন প্রয়োগ, নজরদারি এবং তদন্ত কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ তামাকের বাজার শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, বরং এটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অর্থায়নের অন্যতম উৎস। ফলে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকার কতটা কার্যকরভাবে এই কালোবাজারি নেটওয়ার্ককে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

Source : ABC NEWS