মামুন আলা:
দীর্ঘসূত্রিতা অলসতা নয়; বরং এটি এক ধরনের emotional regulation বা আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা। আমাদের মস্তিষ্কের দুটি অংশ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
Limbic system (তাৎক্ষণিক আরাম চায়) এবং Prefrontal cortex (পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করে)।
যখন কোনো কাজ কঠিন, বিরক্তিকর বা অনিশ্চিত মনে হয়, তখন limbic system বলে: “এটা পরে করো, এখন একটু আরাম নাও।”
কিন্তু যখন deadline কাছে আসে, তখন panic mode চালু হয়, adrenaline হরমোন বেড়ে যায়, এবং মস্তিষ্ক হঠাৎ করে ফোকাসড হয়ে যায়। এক ধরনের short-term boost দেয়। তখনই মনে হয়, “চাপ না থাকলে আমি কাজই করতে পারি না।”
অর্থাৎ, ধীরে ধীরে এটি এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়।মস্তিষ্ক কাজ করতে হলে কোনো crisis বা সংকটের প্রয়োজন (যেমন strict deadline), কিংবা কোনো কাজ শুরু করতে ভয় বা চাপ (panic) দরকার হয়। আমরা “last-minute pressure”-এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।
এই কারণেই দেখা যায়, কয়েকটি আনপ্রোডাক্টিভ দিনের পর হঠাৎ একটি প্রোডাক্টিভ দিন আসে, আবার সেই প্রোডাক্টিভ দিনের পর slump (উদ্যমহীনতা) তৈরি হয়।
এর কারণ হলো, একদিন খুব বেশি কাজ করলে mental এবং physical energy কমে যায়। মস্তিষ্ক তখন reward চায় (“আমি তো কাল অনেক কাজ করেছি!”), ফলে পরের দিনগুলোতে resistance বাড়ে।
এটি এক ধরনের boom–bust cycle।
একটি deadline-মুক্ত জীবনের জন্য
(শুধু লেখাপড়া বা অফিসের কাজ নয়, বাগানের কাজ, ঘর গোছানো, বা যে কোনো ব্যক্তিগত কাজেও):
* আজকের সাময়িক স্বস্তির জন্য কাজ ফেলে রেখে আগামীকালের stress ধার না করি; বরং আগামীকালকে আজকের জন্য ধার নেই।
* productive হওয়ার জন্য panic বা সংকটের অপেক্ষা না করি।
* ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করি—১০০% নয়, ১০%।
* perfection নয়, progress লক্ষ্য করি।
* stress-এর উপর নির্ভর না করে, নিজের একটি rhythm তৈরি করি।
(লেখক Australian Counselling Association (ACA)-এর Level-2 সদস্য)