সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের আসক্তি কমাতে অস্ট্রেলিয়া সরকার এখন আরও কঠোর। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন আরও জোরালো করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে, আইন না মানলে টেক জায়ান্ট বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার নতুন এই আইনের আওতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের সিস্টেমে শিশুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের গুনতে হবে ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা। আগে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
কেন এই কঠোর অবস্থান?
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো আগের আইনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮৫ শতাংশ অস্ট্রেলীয় শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। বর্তমানের ‘সেলফি ভেরিফিকেশন’ বা ‘বয়স যাচাইয়ের’ সাধারণ পদ্ধতিগুলো শিশুরা সহজেই এড়িয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠান আইন মানার ক্ষেত্রে কেবল ‘নামমাত্র’ বা ‘Bare Minimum’ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশাসনের হাতে আসছে নতুন ক্ষমতা
নতুন প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী, দেশটির ‘ই-সেফটি কমিশনার’-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এখন থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বরং অ্যাপ স্টোর এবং বয়স যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও তথ্য তলব করতে পারবে। ফলে প্ল্যাটফর্মগুলো আসলেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা যাচাই করা সরকারের জন্য সহজ হবে।
বর্তমানে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, গুগলের ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাটের স্ন্যাপ এবং টিকটকের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রেডডিটের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। সেই মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন। তবে সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো ছাড় দেবে না। খুব শিগগিরই এই নতুন সংশোধনীগুলো পার্লামেন্টে তোলা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।