ভিক্টোরিয়া স্কয়ারের চত্বরে তখন উত্তুরে হাওয়ায় বইছে উৎসবের আমেজ। রোদোজ্জ্বল রোববারের দুপুরের সেই চেনা প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছিল যেন এক টুকরো বিশ্বমঞ্চে। গান, নাচ, রঙবেরঙের পোশাক আর হরেক পসরায় মুখরিত এই মেলায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতির ভিড়ে নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশ।

রোববার (১ নভেম্বর) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ২০২৬ সালের বহুসংস্কৃতি উৎসব (Multicultural Festival)। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৬০টিরও বেশি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী ৭০টি বহুসাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ৯০টিরও বেশি অভিজ্ঞতাভিত্তিক আয়োজন অংশ নেয়। আর এই মিলনমেলায় বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও শিল্পকলা সগৌরবে তুলে ধরে South Australian Bangladeshi Community Association (SABCA)।
উৎসব শুরুর পরেই, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে শুরু হয় সাবকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সামনে নিজেদের আবহমান ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ভিনদেশি দর্শকদের সঙ্গে দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোই ছিল এই পরিবেশনার মূল উদ্দেশ্য। সাবকার আওতাধীন Bangladeshi Community School (BCS)-এর খুদে শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে অংশ নিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেয়। বাংলার লোকগান ও নৃত্যের ছন্দে বিমোহিত হন উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

“অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন দেশের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রেখেই একসঙ্গে বসবাস করছেন। অভিবাসনের এই যাত্রায় নতুন ভাষা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শেকড়কে ধরে রাখা এবং অন্যের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি,” এমনটাই মনে করেন আয়োজক ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা।