মামুন আলা: অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার ফ্লাইট ধরার আগের আজকের বিকেলটা কাটালাম পূর্ব লন্ডনের Whitechapel আর Brick Lane-এর বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকায়। সঙ্গে ছিল আমার প্রাক্তন ছাত্র অভি। ও লন্ডনে থাকে।

দোকানে দোকানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা শাকসবজি, ফল, মাছ, পান-সুপারি। আরও কত কী! একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বোয়াল মাছ, মলা মাছ, রুই মাছের ডিম, কচুশাক, ঘন ডালসহ সাত পদ দিয়ে গরম ভাত খেলাম। একেবারে কব্জি ডুবিয়ে।

একটা দোকানে চোখে পড়ল বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা কাঁঠাল। ছোট বাক্সে ছাড়ানো কোয়াও পাওয়া যাচ্ছিল। অভিকে বললাম আমার কাঁঠাল খাওয়ার একটা ছবি তুলতে। একটা কোয়া মুখে দিতেই কী যে হলো! ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে ছোট বাচ্চার মতো কাঁদতে শুরু করলাম। দু’চোখ বেয়ে অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।

অভির সামনে খুব লজ্জা লাগছিল।
অভি অবাক হয়ে বলল, “স্যার, কী হলো? কাঁদছেন কেন?” কেন কাঁদছি, আমি নিজেও জানি না। don’t know. I really don’t know.
কাঁঠালের স্বাদটা শুধু কাঁঠালের ছিল না। তার সঙ্গে মিশে ছিল ফেলে আসা বাংলাদেশের কত স্মৃতি। শৈশব, বাড়ি, পরিবার, গরমের দুপুর, আম-কাঁঠালের মৌসুম!
আমি খুব কাঁঠাল কিনতে ভালোবাসতাম। দোকানির সঙ্গে দরকষাকষি- “ভাই, কোয়া বড় হবে তো?” “মিষ্টি হবে তো?” “খাজা কাঁঠাল, না গলা কাঁঠাল?” এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো বহু বছর হলো খুব মিস করি।
মানুষ দেশ থেকে যত দূরেই যাক, কিছু স্বাদ তাকে মুহূর্তেই বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মনের গভীর কোণে জমে থাকা স্মৃতির দরজা হঠাৎ খুলে দেয়।
“পিরিতি কাঁঠালের আঠা, লাগলে পরে ছাড়ে না।” আমাদের দেশপ্রেমও ঠিক কাঁঠালের আঠার মত। মাটির টান মন থেকে কখনোই ওঠে না।
