অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি: বাংলাদেশিদের প্রসেসিং কমলেও বেড়েছে অনুমোদনের হার

মাহবুব সিরাজ: অস্ট্রেলিয়ায় আবার বাড়ছে স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদন তবে অনুমোদন বৃদ্ধির চেয়ে কিছু দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়াই হতে পারে বড় কারণ।

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে বলে নতুন পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক মাসের রেকর্ডসংখ্যক প্রত্যাখ্যানের পর এ পরিবর্তন দেখা গেলেও, বিশ্লেষকদের মতে এর পেছনে প্রকৃত অনুমোদন বৃদ্ধি নয়, বরং কিছু দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কমিয়ে দেওয়াই বড় কারণ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স (DHA)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বিদেশ থেকে জমা দেওয়া উচ্চশিক্ষা ভিসার প্রক্রিয়াকৃত আবেদনগুলোর মধ্যে ৮৩ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল মাত্র ৬৭ শতাংশ এবং মার্চে ৫৯ শতাংশ।

এপ্রিল মাসে প্রায় ৭,৪০০টি উচ্চশিক্ষা ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মার্চের ৬,৯০০টির চেয়ে বেশি। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এপ্রিলে প্রায় ৩,০০০ কম আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের আবেদন কম প্রক্রিয়াকরণই কি মূল কারণ? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনুমোদনের হার বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চের গড়ের তুলনায় এপ্রিলে:
ভারতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কমেছে ৫৯ শতাংশ
বাংলাদেশের কমেছে ৬৭ শতাংশ
নেপালের কমেছে ৭৮ শতাংশ
শ্রীলঙ্কার কমেছে ৮৭ শতাংশ
অন্যদিকে, অন্যান্য দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এপ্রিল মাসে ফেব্রুয়ারি বা মার্চের তুলনায় বেশি ছিল।

উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল
জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা জাতীয় মূল্যায়ন অনুযায়ী:বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালকে উচ্চ অভিবাসন ঝুঁকির দেশ হিসেবে ধরা হয়েছে, শ্রীলঙ্কাকে মাঝারি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ধরনের দেশের শিক্ষার্থীদের সাধারণত অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং তাদের আবেদন অধিক সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়।

টাইমস হায়ার এডুকেশন জানতে চেয়েছিল, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই চার দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কমিয়েছে কি না। তবে প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিভাগটি কোনো মন্তব্য দেয়নি।

“সরকার ভিসার কল বন্ধ করে দেয়” — শিক্ষা খাতের অভিযোগ

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড বলেন: “অনেক বছর ধরেই ভিসা প্রক্রিয়ার নীতি ও পদ্ধতি অত্যন্ত অস্পষ্ট।” তিনি আরও বলেন: “সমালোচকদের মতে, ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সরকার অনেক সময় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি কমিয়ে দেয়। হঠাৎ করে প্রক্রিয়াকরণ কমে গেলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কারণ এতে বহু তরুণ-তরুণী অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুলগুলোর একটি। “নৈতিকভাবে অন্তত আবেদনকারীদের সময়মতো আবেদন নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করার অধিকার রয়েছে।”

বাংলাদেশিদের অনুমোদন কিছুটা বেড়েছে: দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের আবেদন কম প্রক্রিয়াকরণ হলেও, যেসব আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়েছে সেগুলোর অনুমোদনের হার কিছুটা বেড়েছে:
বাংলাদেশ: ৪৭% থেকে বেড়ে ৫৫%
ভারত: ৪৯% থেকে বেড়ে ৬২%
নেপাল: ২৭% থেকে বেড়ে ৪০%
শ্রীলঙ্কা: ৪৪% থেকে বেড়ে ৮৪%
অন্যদিকে: ফিলিপাইনের অনুমোদন হার ৭৪% থেকে কমে ৬৬%
পাকিস্তানের হার ৫৮% থেকে কমে ৫৭%

কিছু দেশের আবেদন কমছে, বাংলাদেশ ও নেপালে চাহিদা এখনো শক্তিশালী: আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের সংখ্যা কমতে পারে। তবে ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যানের পরও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আবেদন করার আগ্রহ এখনও শক্তিশালী রয়েছে।