মাকসুমুল হক: জানুয়ারি ১৩, ২০১৩ এক যুগ আগের সময়। চিলির পাতাগোনিয়া এলাকার ছোট্ট শহর পুয়েরটো নাটালেস এর এয়ারপোর্ট থেকে পুয়েরটো মন্ট শহরে যখন নামি তখন প্রায় সন্ধ্যে। এয়ারপোর্ট থেকে আধ ঘণ্টা শাটল বাসে পুয়ের্তো ভারাস। নেমে কাগজে ছাপানো ম্যাপ দেখে আন্দাজ করে হোটেলের পথে হাঁটতে থাকি। পথে একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলাকে পাই যিনে পোষা কুকুর সাথে হাঁটতে বেরিয়েছেন। তাকে ঠিকানা দেখালাম। সে বলল, আমার সাথে চলো, আমিও ও পথে যাচ্ছি। পথে যেতে যেতে জানলাম সে জার্মান। তার কাছে জার্মানদের এই শহরে আগমনের ইতিহাস সম্পর্কে একটা ধারণা পেলাম। আঠারো শতকের শেষের দিকে জার্মান রেভ্যুলুশন পতনের সময়কালে বহু জার্মান এই পুয়ের্তো ভারাস শহরে চলে আসে। এই মাইগ্রেশন মুভমেন্টটি “Forty-Eighters” migration wave নামে পরিচিত। আলাপ করতে করতে একসময় পথ শেষ হয়ে আসে। আমাকে একদিক দেখিয়ে দিয়ে সে চলে যায় তার পথে। ছাপানো ম্যাপ অনুযায়ী হোটেল খুঁজে পাচ্ছিলাম না কোনভাবেই। তখন অন্ধকারে দেখা মেলে আরেক ট্যুরিস্টের সাথে। বয়সে তরুণ। গুগল ম্যাপ তখন বছরখানেক মাত্র চিলিতে চালু হয়েছে। এ সম্পর্কে আমি শুনলেও ব্যবহার শুরু করি নি তখনো। ছেলেটি দেখলাম তার ফোনে গুগল ম্যাপ চালু করল। অল্প সময়ে আমরা হোটেল খুঁজে পেলাম। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিলাম।


ছোট্ট শহর পুয়ের্তো ভারাস ছুঁয়ে শান্ত লেক ল্লানকুইউই আর লেকের ওপারে দূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ওসর্নো আগ্নেয়গিরি, যেন কোনো ইউরোপিয়ান গল্পের বই থেকে উঠে আসা।
পুয়ের্তো ভারাস শহরে আমার আসার লক্ষ্য শুধুমাত্র ভলকানো অসর্নো। চিলিতে কোথায় কোথায় যাবো ঠিক করার সময় অসর্নোর বেশ কিছু ছবি দেখে শহরটি ভ্রমণসূচীতে যোগ করে ফেলি। ছোট্ট শহর পুয়ের্তো ভারাস ছুঁয়ে শান্ত লেক ল্লানকুইউই আর লেকের ওপারে দূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ওসর্নো আগ্নেয়গিরি, যেন কোনো ইউরোপিয়ান গল্পের বই থেকে উঠে আসা। একটু দুরেই চোখে পড়ে ভলকান ক্যালবুকো। দূর থেকে দেখলে বরফঢাকা শান্ত এক পাহাড় মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আগ্নেয় শক্তির গভীর উপস্থিতি। ওসর্নোর মতো নিখুঁত আকৃতির না হলেও ক্যালবুকোর সৌন্দর্য অন্যরকম। সন্ধ্যের আগে লেকের শান্ত জলের পাশে রঙিন কাঠের ঘর, ঠান্ডা বাতাস আর বরফঢাকা আগ্নেয়গিরি স্বপ্নকল্পের মতো মোহময়।
পরদিন সকালে বেরিয়ে বেশ কয়েকটি নিকটবর্তী স্পটে যাই যেখান থেকে অসর্নো দেখা যায়। এতো বছর পর জায়গাগুলোর নাম ম্যাপ থেকে খুঁজে খুঁজে যোগ করলাম। তুলে রাখা ছবিগুলো চোখের সামনে পড়ে যাওয়ায় ভাবলাম লিখে ফেলি কিছু।

