৪৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার

সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ৪৭ বছর বয়সী ব্যক্তি প্রথমবার আদালতে হাজির হওয়ার পর তাকে কারাগারেই রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৪৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ৪৬ বছর বয়সী নারী এবং দুই ছেলে একজনের বয়স ১২, অন্যজনের ৪ বছর। ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী এবং ১২ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলেকে “অত্যন্ত নৃশংসভাবে” হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশকে বলা হয়েছে যে ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলের পূর্ণকালীন পরিচর্যাকারী ছিলেন। দুই শিশুই বিকাশজনিত সমস্যায় ভুগছিল।
পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে ক্যাম্পবেলটাউনের একটি বাড়ি থেকে ফোন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা সেখানে যান।
সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি বলেন, বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে সরাসরি উপস্থিত হননি এবং জামিনের আবেদনও করেননি।
তার পক্ষে আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, তার মক্কেল “মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন”। তিনি বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি মর্মান্তিক ঘটনা।” “এই মুহূর্তে আমরা মামলার বিষয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না… আমার মক্কেল আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার ভোগ করেন।”
সুপারিনটেনডেন্ট মোরোনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার আগে কখনও পুলিশের নজরে আসেনি। তিনি বলেন, “এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দেয় যে গার্হস্থ্য সহিংসতা সমাজে কত বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্যাম্পবেলটাউন বাড়িতে বসবাস করছিলেন।“ঠিক কতদিন ধরে তিনি সেখানে ছিলেন এবং পারিবারিক সহিংসতার পরিস্থিতি কী ছিল — তা এখনো স্পষ্ট নয়,” তিনি বলেন।
গতকাল সুপারিনটেনডেন্ট মোরোনি তিনজন কীভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারছি না। তবে বলতে পারি, তিনজনই গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থলটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।”
পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন আজ এই ঘটনাকে “ভয়াবহ ট্র্যাজেডি” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এখন আমরা দেখছি, একজন নারী এবং দুই ছোট শিশু মারা গেছেন। আর একজন ব্যক্তি হত্যার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন।” “মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় আমি খুব সীমিত কথাই বলতে পারি।” “কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সমাজে আমরা এ ধরনের ঘটনা খুব ঘন ঘন দেখতে পাই।”
এখনও ঘটনাস্থলটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে। আজ সকালে আশপাশের প্রতিবেশীদের সেখানে ফুল রাখতে দেখা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বিভিন্ন অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। তাকে তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জুলাই আবার আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এর আগে পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স রিপোর্ট বা পুলিশের রেকর্ড ছিল না। এখন NSW Police Force এর হোমিসাইড স্কোয়াড তদন্ত করছে ।

প্রতিবেশী আমান্ডা ওয়াসিলেউস্কি বলেন, গত রাতে তিনি নিজের ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখনই জরুরি সেবাকর্মীরা তাদের রাস্তায় এসে পৌঁছান। তিনি বলেন, পরিবারটি নিজেদের মধ্যেই থাকত এবং শিশুরা ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিল।

For life threading issue: Do not wait call: 000

পারিবারিক ও গৃহস্থালি সহিংসতা সহায়তা সেবা:

1800RESPECT জাতীয় সহায়তা হেল্পলাইন: 1800 737 732

উইমেন্স ক্রাইসিস লাইন: 1800 811 811

মেন্স রেফারেল সার্ভিস: 1300 766 491

লাইফলাইন (২৪ ঘণ্টার সংকট সহায়তা লাইন): 131 114

রিলেশনশিপস অস্ট্রেলিয়া: 1300 364 277

NSW ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স লাইন: 1800 656 463

QLD DV Connect Women’s line: 1800 811 811

VIC Safe Steps ক্রাইসিস রেসপন্স লাইন: 1800 015 188

ACT ২৪/৭ ক্রাইসিস লাইন: (02) 6280 0900

TAS Family Violence Counselling and Support Service: 1800 608 122

SA ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ক্রাইসিস লাইন: 1800 800 098

WA Women’s Domestic Violence 24h Helpline: 1800 007 339

NT ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হেল্পলাইন: 1800 737 732