ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং অস্ট্রেলিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকটের মুখে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও ‘নিরাপদ’ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর প্রভাব তত গভীর হবে। তবে আমরা অস্ট্রেলীয়দের এই সংকটের আঁচ থেকে রক্ষা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তেলের পাম্পে হাহাকার
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বাজারেও। সিডনিসহ নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতি সাতটি রিটেইল দোকানের মধ্যে একটিতে অন্তত এক ধরনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। কুইন্সল্যান্ডের কেয়ার্নস এলাকায় অনেক ছোট ও স্বতন্ত্র পেট্রোল পাম্পে আনলেডেড পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না।
দাম আকাশচুম্বী: অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়াম জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ১৭১ সেন্ট থেকে বেড়ে লিটার প্রতি ২৩৮ সেন্টে (প্রায় ১৬৪ টাকা) দাঁড়িয়েছে। সিডনিতে ডিজেলের দাম সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে লিটার প্রতি ৩১৪.৫ সেন্টে পৌঁছেছে।
সংকটের কারণ কী? : সরকার দাবি করছে, তেলের মূল সরবরাহ বা আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। মূলত জনসাধারণের অতিরিক্ত তেল কেনার কারণেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল রোডস অ্যান্ড মোটোরিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (NRMA) মুখপাত্র পিটার খুরি বলেন, “মানুষ গ্যারেজে জেরি ক্যান ভরে তেল মজুত করছে। অনেক পরিবহন সংস্থা তাদের চালকদের নির্দেশ দিয়েছে, ট্যাঙ্কি অর্ধেক পূর্ণ থাকলেও সুযোগ পাওয়া মাত্রই ডিজেল ভরে নিতে।”
চুক্তিবদ্ধ না থাকায় বড় তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ছোট ও স্বতন্ত্র পাম্পগুলো তেল পেতে হিমশিম খাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সরকারের পদক্ষেপ: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সোমবার জরুরি ভিত্তিতে ‘ন্যাশনাল ক্যাবিনেট’ বৈঠক ডেকেছেন আলবানিজ। বর্তমানে রেশন ব্যবস্থা চালুর কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও, সরকার জাতীয় মজুত (National Stockpile) থেকে তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুটি এলএনজি প্ল্যান্ট (গর্গন ও হুইটস্টোন) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শেভরনের তথ্যমতে, এই দুটি প্ল্যান্ট বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।
তথ্যসুত্র: বিবিসি