মোসাম্মৎ পারুল বানু আর শিমুল মিয়া

কবীর আহমেদ: বেশ কিছুদিন ধরে নানা প্যারায় শিমুল মিয়া দিনাতিপাত করছে। কিছু প্যারা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিছু প্যারা মধ্যম কিসিমের,  কিছু প্যারা ছিল গুরুত্ব হীন । কোন প্যারা আবার হুদা হুদাই। নানা জাতের নানান রকম প্যারা। এসব তাল বেতাল প্যারা খাইতে খাইতে শিমুল মিয়া প্রেমিকা মোসাম্মৎ  পারুল বানুর সাথে দেখা করার তো দূরের কথা ঠিক মতো বাতচিৎ করতে পারে নাই। তাই শিমুল মিয়ার সাথে মোসাম্মৎ পারুল বানুর প্রেম দোলানী এখন মেন্দা মেন্দা কোইরা দুলতাছে। এতো কষ্ট কোইরা শিমুল মিয়া একটা প্রেম করতে ছিল তাও ছুইটা গেল কিনা সে বিষয়ে ভাইবা ভাইবা একবার লো প্রেশার আর এক বার হাই প্রেশারের চাপা চাপিতে শিমুল মিয়ার শরীর পুরানো ঢাকার বিখ্যাত ফুলু ব্যাপারির হোটেলের চাপ কাবাব হোইয়া গেছে। ধুমপানে বিশ পান জেনেও চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে সিগারেট টানছে শিমুল মিয়া। প্রেম বিদায়ের ভাবনায় শিমুল মিয়ার  চোখের ভিতর হলুদ রঙের কি এক ফুল বাসা বাঁধতে শুরু করছে। হঠাৎ শিমুল মিয়া দেখে হলুদ রঙের  ফুল শোইরা গিয়া সম্পূর্ণ রঙিন এক ফুল ফুইটা উঠলো।চোখের সামনে হাজির হয় মোসাম্মৎ পারুল বানু।

আমি খুবই এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তোমার কাছে লজ্জিত,দুঃখিত, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থী। মোসাম্মৎ পারুল বানু আসলে আমি এ কয়দিন নানা ধরনের প্যারায় আক্রান্ত হয়ে ছিলাম। তাই তোমার কোন খবর একান্ত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিতে পারিনি । আশা করি……….. মোসাম্মৎ পারুল বানু শিমুল মিয়া কে থামিয়ে দিয়ে বলে এসব ডায়লগ পুরোনো মডেলের। সব কিছুতে তোমার অযুহাত তুলে ধরা ছাড়া আর তো কিছু পারো না। তা ছাড়া নাটক সিনেমা আর গল্পের নায়কের মত শিমুল মিয়া বারবার নায়িকা মোসাম্মৎ পারুল বানুর সাথে দেখা করতে হবে কেন? নায়ক খালি পাঠ নিবে আর নায়িকার কোন বেইল থাকবে না এটা আমি মেনে নিলাম না। এখন সময় হলো পরিবর্তন আর সংষ্কারের। সমাজ,রাষ্ট্র জীবনে যেমন পরিবর্তন আর সংষ্কারের প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন  ব্যক্তি জীবনেও পরিবর্তন আর সংষ্কারের। ব্যক্তি মানুষ ঠিক না হলে কোন থিওরি বেটে খাওয়ালেও কোন কিছু সফল হবে না। অবশ্য এই সব তোমার মতো বান্দর কে বলে কোন কাজ হবে না জানি। বান্দর না শুনে জ্ঞানের কথা। তাই আর সময় নষ্ট না করে আমি ই চলে এসেছি প্রেমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে।

এই যে চা মামু আপনি হা করে আমার কথা শুনলে হবে? আপনার হা মুখ বন্ধ করেন। মাছি ঢুকে যাবে। চা দোকানদার খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হা মুখ বন্ধ করে। এই বার আমাকে এক কাপ চা দেন‌ বলতে বলতে মোসাম্মৎ পারুল বানু শিমুল মিয়ার পাশে বসে। এই দাড়াও দাড়াও। মোসাম্মৎ পারুল বানু তুমি কি এতো দিন আন্দোলনে ছিলে?  তাহলে তো তোমার সাথে এতো দিন দেখা না হয়ে ভালোই হয়েছে। আমার মতো কুফা প্রেমিকের সাথে দেখা হলে আন্দোলনে বিজয়ী হতে পারতে না। ভাগ্যিস প্রকৃতি যথাসময়ে আমাদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। চলো এজন্য আমরা আকাশের দিকে ৭ সেকেন্ড তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।‌ চা মামা আপনিও আসেন। এই কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন হবে আমাদের জাতীয় জীবনের অনন্য এক ঘটনা। চুপ করো। বানরের মতো ফাজিল মার্কা এ্যাক্টিং করে এখানে নিরীহ জনগণের কাছে তোমার ভিউ বারাতে হবে না। মোসাম্মৎ পারুল বানু সোজা ধমক বর্ষণ করে শিমুল মিয়ার উপর।

মোসাম্মৎ পারুল বানুর  হাত শিমুল মিয়ার হাতে ভালোবাসার স্পর্শে স্পর্শিত হয়। এখন চলো বাস স্ট্যান্ড।  তুমি কি  তোমার গ্রামের  বাড়িতে যাচ্ছো? আমি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি না। তবে আমরা আজ দুজনে একসাথে ফরিদপুর যাচ্ছি। ৩ টায় বাস। বিকেলে পৌঁছে যাবো। সন্ধ্যায় ইছামতী নদীতে ঘুরে বেড়াবো। রাতে জোছনা মেখে আপার বাসায় আমার রাত যাপন। আর তোমার হোটেলের বন বাস। আগামী কাল ভোর কে গ্রহণ করে সারাদিন এলোমেলো ঘুরবো আর দুজন চুটিয়ে প্রেম করে বিকেল ৩ টায় বাস ধরে তোমার প্রিয় ঢাকায় আগমিত হবো। সো কোন আজাইরা প্রিপারেশন এর অযুহাতে ফরিদপুর যাত্রা বন্ধ হবে না প্রিয় বান্দর শিমুল মিয়া। ঠিক আছে চলো। তবে যাবার আগে অনুগ্রহ করে জানাবে চুটিয়ে প্রেম করার সময় অসভ্য হবার সুযোগ আছে কি না ? মানে অনেক দিন ধরে প্রেম করলেও এখনো অসভ্যতার অ হতে পারিনি। অসভ্যতার অভাবে  প্রেমের যন্ত্রপাতি সব অকেজো হয়ে যায় যে। অকেজো হয়ে যায় না অলরেডি  অকেজো হয়ে গেছে তা আমার চেয়ে আর কে ভালো জানে। তুমি শুধু চরম অকেজো অসভ্য না মহা বান্দর একটা।

মোসাম্মৎ পারুল বানু আর শিমুল মিয়া চায়ের দোকান পার হয়ে সড়ক পথে উঠে যায়। দুজন খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে আকাশের পানে নয়ন মেলে। মোসাম্মৎ পারুল বানু আর শিমুল মিয়া স্পষ্ট দেখতে পায় আকাশের ভিতর আর এক আকাশ। ভালোবাসার আকাশ।