“চাঁদ রাত এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর” : আমার কোন গ্রামে বাড়ি নেই

কবীর আহমেদ: ঢাকা শহরে আমাদের কয়েক পুরুষের স্থায়ী বসবাস। তাই কখনো গ্রামের বাড়িতে  ঈদ উদযাপন করতে পারিনি। জীবনের একটা মহা আফসোস। তবে এই প্রথমবারের মতো আমার মেয়ে অস্ট্রেলিয়াতে লেখাপড়া করার কারণে এডিলেড শহরে এবার রোজা আর ঈদুল ফিতর উদযাপন করার তৌফিক মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।  এডিলেড শহরে যতটুকু দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এখানে বাংলাদেশের মুসলমানদের রোজা এবং ঈদের কোন আমেজ দেখতে পাইনি। এই শহরে হাতে গোনা কয়েকটা মসজিদ আছে। মসজিদে আজান মাইকে দেওয়া হয় না। অ্যাপস এর মাধ্যমে আজান শুনতে হয়। শহরের কোথাও বাংলাদেশের মুসলমানদের ইফতারের প্রিয় সামগ্রী বেচাকেনা হয় না। তবে মসজিদে বেশ কয়েকদিন ইফতার পরিবেশন করা হয়।  বাংলাদেশের মতো ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় কিনতে চাইলে সারা বছর শপিংমলে যেসব জামাকাপড় পাওয়া যায় তাই কিনতে হবে ।  রোজা কিংবা ঈদের কোন আবহ উপভোগ করার সুযোগ হলো না।

ঈদের নামাজেও দেখলাম দুদিন হল। অর্থাৎ এখানে বসবাসকারী মুসলমানরা ঈদের দিন নিয়েও বিভক্ত।  এখানে বাংলাদেশী বসবাসকারীরা ঈদের দিন মোটামুটি দাওয়াত কালচারে অভ্যস্ত। এক পরিবার অন্য পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে থাকে। এই দাওয়াত প্রদান আর গ্রহণের মধ্য দিয়েই  মূলত ঈদ উদযাপন। আর ঘোরাঘুরি বা বেড়াতে যাওয়া বলতে যেটা বুঝায় সেটা ঈদ উপলক্ষে আলাদা কিছু হয় না। সাধারণত যেসব জায়গায়  বেড়ানো হয় সে সব জায়গায় মানুষ আবার ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে যায় । চাঁদরাতে একটা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশের মুসলমানরা একত্রিত হয়ে চাঁদ রাত উদযাপন করে। এটা বেশ কয়েক বছর ধরে হচ্ছে।  কমিউনিটি সেন্টার গিয়ে  দেখলাম বেশকিছু স্টল আছে।খাবার,শাড়ি, কসমেটিক্স, নানা সামগ্রী  স্টল গুলোতে বেচাকেনা চলে।অনেক আনন্দ নিয়ে  শিশু আর মেয়েরা হাতে মেহেদি দিল। গান পরিবেশিত হল। আগত সবাই সবার সাথে কুশল বিনিময় করল। সবার ভিতরে ছিল ঈদের আনন্দ। অনেকেই বলছিল  চাঁদ রাতের এই মিলন মেলাই তাদের জন্য ঈদের আনন্দ। আর ঈদের দিন সকালে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় এবং মুসল্লিদের সাথে কোলাকুলি কুশল বিনিময় তারপর বাড়ি ফেরা। এবং বাসায় অনেকটা গৃহবন্দী। এই হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন।

সবার জন্য রইল  অশেষ মঙ্গল কামনা।