বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পঠনপাঠন ও রহস্যঘেরা কবিতা জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’। সেই কবিতার মায়াবী জগৎ ও গভীরতা এবার ধরা দেবে রুপালি পর্দায়। প্রখ্যাত নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের নির্দেশনায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি, যার শিরোনাম ‘বনলতা সেন: দ্য ফ্লেশ অফ পোয়েট্রি’। আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় মারকারি সিনেমায় (Mercury Cinema) সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের হাত ধরে এই সিনেমাটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং জীবনানন্দ দাশের কবিতার এক দৃশ্যমান রূপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ‘দ্য ফ্লেশ অফ পোয়েট্রি’ বা কাব্যের শরীর হিসেবে অভিহিত এই সিনেমাটি দর্শকদের নিয়ে যাবে কবিতার সেই পরিচিত কিন্তু রহস্যময় এক জগতে।
জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিশ্লেষণ কিংবা কবিতা দৃশ্যায়নের এক সময়বন্দী ছবি বনলতা সেন ; কাব্য, রূপক ও প্রতীকধর্মী এক আলো ছায়াময় ছবি। সময়বন্দী এক কবির জীবনের টানাপোড়েন, স্মৃতি,অন্তর্গত বেদনা, নিঃসঙ্গতা কিংবা বোধের এক কবিতাধর্মী ছবিও বনলতা সেন । তবে ঠিক কবি জীবনানন্দের বায়োপিক নয়। পুরো ছবিতে কাব্যধর্মী বিষন্নতা আর বনলতা সেনের পরিচয় বৃত্তান্ত যেমন আছে তেমনি কবি জীবনানন্দের জীবনের টানাপোড়েন, কাব্য সমালোচনা, তার কবিতায় অন্যান্যদের প্রভাব, রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা কিংবা বুদ্ধদেব বসুর খানিক প্রেরণা, সংসারের গঞ্জনা, প্রেম, বিয়ে কিংবা বিষন্নতা নিয়ে ট্রামের নীচে যাওয়া সব ফ্রেমবন্দী করার চেষ্টা আছে এই ছবিতে। আছে বোধ,রহস্যময়তা, আলো-আঁধারি কিংবা রাতের নির্জনতা, চিল,সারস বা পেঁচার ডাক, আছে ঘাই হরিণীর বেদনা, ইঁদুর-শূকরের ঝাঁক, আছে বিস্তর প্রকৃতিময়তা।
চলচ্চিত্রটিতে বনলতা সেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা, মিলু বা জীবনানন্দের চরিত্রে খায়রুল বাশার, স্ত্রী লাবণ্য গুপ্তের চরিত্রে মায়মুনা মম, মহীনের চরিত্রে সোহেল মণ্ডল, প্রেমিকা শোভনার চরিত্রে রুপন্তী আকিদ, লীনা নাগ এর ভূমিকায় নাজিবা বাশার, কবি বুদ্ধদেব বসুর চরিত্রে শরীফ সিরাজ, রবীন্দ্রনাখের চরিত্রে গাজী রাকায়েত বনলতা বন্দোপাধ্যায় এর চরিত্রে প্রিয়ন্তী উর্বী,মুনিয়ার চরিত্রে সুমাইয়া পারভীন খুশিসহ আরো অনেকেই অভিনয় করেছেন বনলতা সেন ছবিতে। এই ছবিতে মনে রাখার মতো অভিনয় করেছেন প্রায় সবাই। তবে মাসুমা রহমান নাবিলা, খায়রুল বাশার, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, মম এবং রুপন্তীর কথা আলাদা করে বলা যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে অনুদানপ্রাপ্ত এই ছবির চিত্রনাট্য, গল্প বিন্যাস, সম্পাদনা ও পরিচালনায় ছিলেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।

রেড অক্টোবর প্রযোজিত এই ছবির চিত্রগ্রহণে ছিলেন হৃদয় সরকার। শুটিং হয়েছে কলকাতা,নওগাঁ,নাটোর, রাজশাহী পুরান ঢাকা সহ একাধিক লোকেশনে। এই ছবিতে তিনটি গানের কথা আলাদা ভাবে বলা যায়। খালি গলায় একটা রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহৃত হয়েছে ছবিতে। বাপ্পা মজুমদার ও শাহান কবন্ধের লেখায় “এখানে কেউ নেই” শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পা মজুমদার। জীবনানন্দের গান থেকে অনুপ্রাণিত “দুজনে” শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান। ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল ১৯৩৫ সালে, কবিতার বইতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল ১৯৪২ সালে। আছে আমাকে খুঁজনা বহুদিন, হায় চিল সোনালি ডানার চিল, আট বছর আগের একদিন কবিতার মরিবার হলো তার সাধসহ আরও কয়েকটা কবিতার রূপকধর্মী দৃশ্যায়ন।
প্রদর্শনী ও টিকিট সংক্রান্ত তথ্য
সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের উৎসাহের কথা মাথায় রেখে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনীর। নিচে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দেওয়া হলো:
• তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার
• সময়: সন্ধ্যা ৭টা
• স্থান: মারকারি সিনেমা (Mercury Cinema)
• পরিবেশনায়: Quasar Sonomatogram
সিনেমাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং টিকিট সংগ্রহের জন্য ভিজিট করতে পারেন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.quasarsonomatogram.com.au.
কবিতার মায়াজালে ঘেরা এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা বাংলা ধ্রুপদী সাহিত্য এবং জীবনানন্দ দাশের কবিতার ভক্ত, তাদের জন্য এটি অবশ্যই মিস করার মতো নয়!