অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন প্রবাহ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে

মাহবুব সিরাজ: অস্ট্রেলিয়ায় নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (NOM) বা বিদেশ থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসনের নিট সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (ABS) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৭৮ লাখে পৌঁছেছে। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখ অতিক্রম করেছে।

ABS-এর জনসংখ্যা বিভাগের প্রধান বেইদার চো জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে—প্রাকৃতিক বৃদ্ধি (জন্মহার থেকে মৃত্যুহার বাদ দিলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়) এবং বিদেশি অভিবাসন।

তথ্য অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্যের ফলে জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫০০ জন। অন্যদিকে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে জনসংখ্যায় যুক্ত হয়েছে আরও ৩ লাখ ১ হাজার মানুষ।

নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বলতে বিদেশ থেকে আগত ও বিদেশগামী মানুষের সংখ্যার পার্থক্যকে বোঝায়। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাস শেষে দেশে ফিরে আসা বা দেশত্যাগকারী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।

সর্বশেষ ৩ লাখ ১ হাজারের এই সংখ্যা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তবে সমালোচকদের মতে, এই সংখ্যা এখনও অনেক বেশি। কারণ গত সাড়ে তিন বছর ধরে টানা ১৪টি প্রান্তিকে নেট অভিবাসন ৩ লাখের ওপরে অবস্থান করছে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, সরকার অভিবাসনের সংখ্যা বছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংখ্যা।

অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, সরকার দক্ষ কর্মীভিত্তিক অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা এবং আবাসন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসাধারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।

অন্যদিকে বিরোধী জোট (কোয়ালিশন) সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, বর্তমান অভিবাসনের হার দেশের আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

কোয়ালিশনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র সিনেটর জোনো ডুনিয়াম বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার অনেক মানুষ যখন বাসস্থান খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছেন, তখন ৩ লাখ ১ হাজারের অভিবাসন সংখ্যা এখনও অত্যন্ত বেশি।”

এদিকে ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসনও অভিবাসন ইস্যুকে সামনে এনে দাবি করেছেন যে, অতিরিক্ত অভিবাসন দেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তাঁর বহুসংস্কৃতিবাদবিরোধী মন্তব্য দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমবাজার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আবাসন, পরিবহন ও জনসেবার ওপর এর প্রভাব নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: Australian Bureau of Statistics (ABS) এবং অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।