অ্যাডিলেডে ৯৯ সেন্টেও মিলতে পারে পেট্রোল!

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা Adrian Portelli। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান LMCT Plus দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এমন একটি পেট্রোল স্টেশন চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে সদস্যরা পাইকারি মূল্যে জ্বালানি কিনতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি মাত্র ১ ডলারের কাছাকাছি, এমনকি ৯৯ সেন্ট পর্যন্ত হতে পারে।
নিজের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ব্যবসায়ী বাড়ি, গাড়ি এবং নগদ অর্থ উপহার দিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি জানান, অ্যাডিলেড সিবিডি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দ্বিতীয় LMCT Plus পেট্রোল স্টেশন চালু হতে পারে।

পোর্টেলি বলেন, “LMCT Plus Petrol নিয়ে আমরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় আসছি। অনেকদিন ধরেই মানুষ এর অপেক্ষায় ছিল।”
যদিও তিনি এখনো নতুন স্টেশনের সঠিক অবস্থান প্রকাশ করেননি, তবে জানিয়েছেন যে একটি বিদ্যমান সার্ভিস স্টেশন অধিগ্রহণ করে সেটিকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হবে।
মেলবোর্নে তাঁর পরিচালিত পেট্রোল স্টেশনের অভিজ্ঞতা যদি উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়, তাহলে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার চালকরাও লিটারপ্রতি মাত্র ৯৯ সেন্টে জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এমন সম্ভাবনায় অনেক মোটরচালক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

একজন চালক বলেন, “বর্তমানে জ্বালানির খরচ অনেক বেশি। দাম যদি কিছুটা কমে, তাহলে মানুষের জন্য সত্যিই উপকার হবে।” আরেকজন বলেন, “তাহলে হয়তো আমি এখনকার চেয়ে বেশি বার গাড়ির ট্যাংক ভরতে পারব, যা আমার গাড়ির জন্যও ভালো হবে।”

তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। ডিসকাউন্ট মূল্যের জ্বালানি শুধুমাত্র LMCT Plus-এর সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সদস্য হতে বছরে ৯৯ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে পোর্টেলি বলেন, “আমরা আমাদের সদস্যদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে চাই। এই সদস্যপদ ব্যবস্থার কারণেই আমরা কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছি। মাত্র পাঁচ সপ্তাহে আমরা প্রায় ৮ লাখ ডলারের সাশ্রয় জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।” এদিকে, তাঁর এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সবাই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। পোর্টেলি স্বীকার করেছেন যে অন্তত একজন বিদ্যমান অপারেটরের কাছ থেকে বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “একজন অপারেটর আপত্তি তুলেছেন। আমি বলি, আসুক, দেখা যাক।”

তবে তিনি আশাবাদী যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এই উদ্যোগ ব্যাপক সফল হবে। এমনকি স্টেশন উদ্বোধনের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে বলেও মনে করছেন।
পোর্টেলির ভাষায়, “অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমার মনে হয় সমস্যা হলো—এখান থেকে কতটা লাভ করা হচ্ছে।” তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেট্রোল স্টেশনের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
Source: 7 news