আসছে ১৬ মে, শনিবার। ‘আমাদের কথা অস্ট্রেলিয়া’-র বিশেষ সাক্ষাৎকারে আমাদের মুখোমুখি হচ্ছেন আপনাদের প্রিয় অঞ্জন দত্ত। গান, অভিনয় আর সিনেমার পর্দার আড়ালের মানুষটিকে চিনুন একদম নতুনভাবে। চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে এবং বিস্তারিত পড়ুন আমাদের ওয়েবসাইটে (amaderkotha.com.au)।
বাস্তব জীবনে অঞ্জন দত্ত একজন অত্যন্ত স্পষ্টবক্তা, তিনি মনে করেন, শিল্পীর কাজ হলো সমাজকে আয়না দেখানো, আর সেই আয়নায় যদি নিজের খুঁতগুলোও ধরা পড়ে, তবে তাতে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।
অঞ্জন দত্ত একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিল্পী, যিনি তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, শহুরে লোকসংগীতধর্মী গান এবং বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। সমকালীন বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সুপরিচিত।
অঞ্জন দত্ত তাঁর শিল্পজীবন শুরু করেন ১৯৭০-এর দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা Mrinal Sen-এর সঙ্গে কাজ করে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা, বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থিতি এবং গভীর আবেগের প্রকাশ। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও চিত্রনাট্য রচনায়ও সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। গায়ক ও গীতিকার হিসেবে অঞ্জন দত্ত বাংলা গানে এক নতুন শহুরে ধারা নিয়ে আসেন। Bob Dylan এবং Leonard Cohen-এর মতো পাশ্চাত্য শিল্পীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি প্রেম, একাকীত্ব, শহুরে জীবন, রাজনীতি ও স্মৃতিচারণার মতো বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। সহজ সুর, গিটারভিত্তিক সংগীত এবং কথোপকথনের মতো গীতরীতির জন্য তাঁর গান নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বেলা বোস, ২৪৪১১৩৯ এবং রঞ্জনা আমি আর আসব না তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও অঞ্জন দত্ত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর চলচ্চিত্রে আধুনিক শহুরে সম্পর্ক, পরিচয় সংকট এবং মধ্যবিত্ত জীবনের নানা দিক ফুটে ওঠে।
“আমি নিখুঁত হওয়াতে বিশ্বাস করি না। আমি বাস্তববাদী। রেকর্ডের স্ক্র্যাচ, দেয়ালের ফাটল আর আমার চরিত্রের ত্রুটিগুলো আমি পছন্দ করি। ওখান দিয়েই তো আলো প্রবেশ করে।”
অঞ্জন দত্ত নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলা স্বাধীন সংগীত আন্দোলনের বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনের পরও তিনি আজও সমানভাবে সক্রিয় একজন গায়ক, অভিনেতা, লেখক ও পরিচালক। বর্তমানে অঞ্জন দত্ত বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর গান ও চলচ্চিত্রে শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের অনুভূতি, সংগ্রাম ও স্বপ্ন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।