জ্বালানির দাম কমতে শুরু, স্বস্তির আভাস

জ্বালানির শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাম কমতে শুরু করেছে। আগে সতর্ক করা হয়েছিল যে এই শুল্ক কমার প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে, কিন্তু ইতোমধ্যেই দাম কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে NRMA। সরকার তিন মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর জ্বালানি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়েছে, ফলে প্রতি লিটারে ২৬.৩ সেন্ট কমেছে। NRMA জানিয়েছে, ৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত প্রতি লিটারে ৭.১ থেকে ২৪.৯ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমেছে।

অ্যাডিলেডে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে—রেগুলার আনলেডেড পেট্রোলের দাম প্রায় ২.৬০ ডলার থেকে ২৫ সেন্ট কমে ২.৩৪ ডলারে নেমেছে। মেলবোর্নে ১৬.৩ সেন্ট কমে প্রায় ২.৪৩ ডলার হয়েছে, সিডনিতে ১২.৭ সেন্ট কমে ২.৪৪ ডলার হয়েছে। হোবার্টে সবচেয়ে কম দাম—১৮ সেন্ট কমে প্রায় ২.৩৯ ডলার। পার্থে ৭ সেন্ট এবং ক্যানবেরায় ১৩.৫ সেন্ট কমেছে। ডারউইনে ১৭.৮ সেন্ট কমলেও এখনও সেখানে দাম সবচেয়ে বেশি—গড়ে প্রতি লিটার ২.৪৬৬ ডলার। সারা দেশে ডিজেলের দাম এখনও প্রতি লিটারে ৩ ডলারের বেশি, তবে অ্যাডিলেডে এটি ২১.৩ সেন্ট পর্যন্ত কমেছে।

এনার্জি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন আগে বলেছিলেন, খুচরা বিক্রেতারা আগে বেশি দামে কেনা জ্বালানি বিক্রি শেষ না করা পর্যন্ত এই শুল্ক কমার প্রভাব ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে সময় লাগবে। তবে NRMA বলেছে, অনেক বিক্রেতা আগেভাগেই দাম কমাতে শুরু করেছে এবং কিছু স্টেশন ইতোমধ্যে কম দামে নতুন জ্বালানি কিনেছে।

কেন এত দ্রুত দাম কমলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত শুল্ক কমার প্রভাব পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে সময় লাগে, কারণ এটি একটি বহুস্তরীয় সরবরাহ প্রক্রিয়া।

ড. ড্যানিয়েল প্রিয়র জানান, শুল্ক কমার প্রভাব প্রথমে পাইকারি দামে পড়ে, তারপর তা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়। সাধারণত নতুন, সস্তা জ্বালানি সরবরাহ না আসা পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতারা দাম কমাতে পারে না।

তবে এবার অনেক বিক্রেতা আগাম দাম কমিয়েছে, কারণ তারা বিশ্বাস করছে খুব শিগগিরই তারা কম দামে জ্বালানি পাবে। স্বল্পমেয়াদে কিছু ক্ষতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছে তারা।

সাধারণত কত সময় লাগে? ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর শুল্ক কমানোর সময় দেখা গিয়েছিল, বেশিরভাগ পেট্রোল স্টেশন ছয় সপ্তাহের মধ্যে দাম কমিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া তার ৮০–৯০% জ্বালানি এশিয়া থেকে আমদানি করে, আর এশিয়া আবার ৬০–৭০% তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে একাধিক ধাপ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর জ্বালানি সংরক্ষণাগারে রাখা হয়, তারপর ট্যাংকারের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয় এবং শেষে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়।

বড় ও ছোট বিক্রেতাদের মধ্যে পার্থক্য: বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকায় তারা তুলনামূলক দ্রুত দাম কমাতে পারে। ছোট বা স্বাধীন বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে।

কতটা সাশ্রয় হবে? শুল্ক অর্ধেকে নামানোর ফলে প্রতি লিটারে ২৬.৩ সেন্ট কমেছে।  ৬৫ লিটার ট্যাংকে প্রায় ১৯ ডলার সাশ্রয় আর ৫০ লিটার ট্যাংকে প্রায় ১৪ ডলার সাশ্রয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে থাকলে আবার খুচরা দামও বাড়তে পারে।

জ্বালানি শুল্ক কী?: জ্বালানি শুল্ক হলো অস্ট্রেলিয়ান সরকারের আরোপিত একটি নির্দিষ্ট কর, যা পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর প্রযোজ্য। এটি বছরে দুইবার মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হয়। বর্তমানে এই শুল্ক তিন মাসের জন্য অর্ধেকে নামানো হয়েছে—৩০ জুন পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারী যানবাহনের জন্য প্রযোজ্য সড়ক ব্যবহার চার্জও তিন মাসের জন্য শূন্যে নামানো হয়েছে, যাতে ট্রাক চালকদের সহায়তা করা যায়।

Source: ABC NEWS