আমি আকাশ পাঠাবো…তোমার মনের আকাশে: অস্ট্রেলিয়া মাতাতে আসছেন রাফা

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে অ্যাডিলেডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াযার সোনোমাটোগ্রাম। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছে একাধিক উল্লেখযোগ্য কনসার্ট, যা প্রবাসে বাংলা সঙ্গীতের প্রতি নতুন করে আগ্রহ ও আবেগ সৃষ্টি করেছে। এরই ধারাবাহিতকায় আগামী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ কোয়াযার সোনোমাটোগ্রাম নিয়ে আসছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘অ্যাভয়েডরাফা’ (AvoidRafa)। এই ব্যান্ডটি প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে। এই সফরে মেলর্বোন, সিডনি, অ্যাডিলেড এবং পার্থসহ বেশ কয়েকটি শহরে কনসার্ট করবে ব্যান্ডটি।

ব্যান্ডের প্রধান সদস্য রায়েফ আল হাসান রাফা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।। সফরের দ্বিতীয় কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ এপ্রিল সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। সেখানে ‘লায়ন আর্টস ফ্যাক্টরি’তে (Lion Arts Factory) আয়োজিত হবে ‘অ্যাভয়েডরাফা অ্যান্ড বেঙ্গলি বিটস অফ অ্যাডিলেড’ শীর্ষক একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। এতে অ্যাভয়েডরাফার পাশাপাশি পারফর্ম করবে স্থানীয় ব্যান্ড ‘রং’, ‘তাল’ ও ‘অগ্নিবীণা’। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের অনুরোধে এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এবারের আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে অ্যাডিলেডের স্থানীয় তিনটি জনপ্রিয় ব্যান্ড— ‘রং’, ‘তাল’‘অগ্নিবীণা’। আগামী ১৯ এপ্রিল অ্যাডিলেডের বিখ্যাত ‘লায়ন আর্টস ফ্যাক্টরি’র মঞ্চে রাফার সাথে একই সন্ধ্যায় গান গাইবে এই তিন ব্যান্ড। প্রবাসী বাঙালিদের শিকড়ের টানে ও সংস্কৃতির বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা এই ব্যান্ডগুলো এখন পারফর্ম্যান্সের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

রায়েফ আল হাসান রাফা জানান, “অস্ট্রেলিয়ার শ্রোতাদের জন্য আমরা বেশ কিছু নতুন চমক নিয়ে আসছি। আমাদের সিগনেচার গানগুলোর পাশাপাশি দর্শকদের অনুরোধের গানগুলোও থাকবে।”

উল্লেখ্য, রায়েফ আল হাসান রাফা কেবল একজন কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি একাধারে ড্রামার, সংগীত পরিচালক এবং শব্দ প্রকৌশলী হিসেবেও সংগীতাঙ্গনে সমানভাবে জনপ্রিয়। তার ব্যান্ড ‘অ্যাভয়েডরাফা’ বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের কাছে অল্টারনেটিভ রক ও পপ মিউজিকের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। বাংলাদেশের অন্যতম স্বতন্ত্র সঙ্গীতধারার এই ব্যান্ডটি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মঞ্চে তাদের শক্তিশালী পরিবেশনা নিয়ে হাজির হবে।

ইতোমধ্যেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাফার জনপ্রিয় গান ‘চলো আর একবার’, ‘আমি আকাশ পাঠাবো’ এবং মেটাল ঘরানার গানগুলো শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। টিকিটের জন্য https://quasarsonomatogram.com.au/event-details/33

কোয়াযার সোনোমাটোগ্রাম: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি সঙ্গীতের এক বছরের সাফল্যযাত্রা:

 

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জলের গানের অস্ট্রেলিয়া সফর কোয়াযারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফোক-ফিউশন ধারার এই ব্যান্ডটি অ্যাডিলেড, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন ও সিডনিতে পরিবেশনা করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা সফরটির ব্যাপক সাফল্যের ইঙ্গিত বহন করে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোয়াযার আয়োজন করে “তাহসান লাইভ: দ্য মেলোডিক ভয়েজ” শীর্ষক কনসার্ট ট্যুর। জনপ্রিয় শিল্পী তাহসান খান ও তার ব্যান্ডের এই পরিবেশনা পরবর্তীতে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে, কারণ এটি তার শেষ আন্তর্জাতিক সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই বছরের নভেম্বরে কোয়াযার নিয়ে আসে বাংলাদেশের দুই কিংবদন্তি ব্যান্ড মাইলস ও আর্টসেলকে এক মঞ্চে। “সিম্ফনি অব ইমোশন্স” শীর্ষক এই কনসার্টটি রক সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য ছিল এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। বৃহৎ আকারের এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করে কোয়াসার তাদের সংগঠনগত দক্ষতার পরিচয় দেয়।

সামনের দিনগুলোতেও রয়েছে আরও চমক। এপ্রিল ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এভয়েডরাফা ব্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া ট্যুর, যা ইতোমধ্যে সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া জুন মাসে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্তের সফরও আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শারমীন ফাতেমার নেতৃত্বে কোয়াযার সোনোমাটোগ্রাম শুধু সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সংযোগ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার দর্শকদের কাছেও বাংলাদেশি সঙ্গীতের বৈচিত্র্য তুলে ধরছে এই প্রতিষ্ঠান। এক বছরের এই সাফল্য কোয়াযারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অদম্য সাহস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর আত্মবিশ্বাসের মন্ত্র নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিনোদন জগতে পথচলা শুরু করেছে মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘কোয়াযার সোনোমাটোগ্রাম’ (Quasar Sonomatogram)। মূলত সততা ও ধারাবাহিকতাকে পুঁজি করে দর্শকদের মানসম্পন্ন বিনোদন পৌঁছে দেওয়াই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই কোম্পানিটি এরই মধ্যে বিনোদন অঙ্গনে নিজেদের স্বকীয়তা জাহির করতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা কেবল গতানুগতিক অনুষ্ঠান আয়োজন নয়, বরং মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ‘কোয়াসার সোনোমাটোগ্রাম’-এর মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান। প্রতিষ্ঠান থেকে  জানানো হয়েছে, “আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই যেখানে সৃজনশীলতা আর সততার কোনো আপস থাকবে না। আমরা বিশ্বাস করি, সাহসের সাথে নতুন কিছু করার চেষ্টা করলে সাফল্য আসবেই।”