অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আজ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফেডারেল সরকারের নতুন জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা AusAlert। নির্ধারিত সময়ে দেশের কোটি কোটি স্মার্টফোন, কিছু স্মার্টওয়াচ এবং ট্যাবলেটে একযোগে সতর্কবার্তা ও সাইরেনধ্বনি শোনা যাবে। অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগে সারা দেশে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতেই আজকের পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে।
সময় অঞ্চল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড, তাসমানিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি: দুপুর ২টা (AEST)
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি: দুপুর ১টা ৩০ মিনিট (ACST)
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া: দুপুর ১২টা (AWST)
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এই পরীক্ষামূলক সতর্কবার্তা পাবেন। কিছু স্মার্টওয়াচ ও ট্যাবলেটেও এটি পৌঁছাবে। তবে নিচের কারণে কেউ কেউ সতর্কবার্তা নাও পেতে পারেন
ফোনটি পুরোনো হলে
নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে
সফটওয়্যার আপডেট না থাকলে
মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে বা নিকটস্থ টাওয়ারে সমস্যা থাকলে
পুরোনো বা বিকল্প অপারেটিং সিস্টেমের ফোনে সতর্কবার্তাটি “Presidential Alert” অথবা “Extreme Threat Alert” শিরোনামে দেখা যেতে পারে।
পরীক্ষার সময় ফোন প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে কম্পন করবে এবং সাইরেনের মতো উচ্চ শব্দ করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি “Critical Alert” হিসেবে পাঠানো হবে। ফলে আপনার ফোন Silent বা Do Not Disturb মোডে থাকলেও সতর্কবার্তাটি বাজবে। বিশেষ করে পারিবারিক বা গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের গোপন (“Safe Phone”) ফোন ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপনি যদি এই পরীক্ষামূলক সতর্কবার্তা এড়াতে চান, তাহলে
পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ করুন অথবা Airplane Mode চালু করুন।
পরীক্ষার পরও ২৪ ঘণ্টা ফোন বন্ধ বা Airplane Mode-এ রাখুন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসে সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে তা যাচাই করাও পরীক্ষার অংশ। তাই কারও ফোনে সতর্কবার্তা কিছুটা আগে বা পরে আসতে পারে, আবার কেউ হয়তো একেবারেই নাও পেতে পারেন।
AusAlert Cell Broadcast প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা সাধারণ এসএমএসের মতো নয়। এর সুবিধাগুলো হলো—
মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকলেও বার্তা পৌঁছাতে পারে।
সক্রিয় সিম কার্ড না থাকলেও উপযুক্ত ডিভাইসে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে পারে।
নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছেই বার্তা পাঠানো যায়—প্রয়োজনে মাত্র ১৬০ মিটার এলাকার মধ্যেও সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব।
জরুরি এলাকার বাইরে থাকলে কোনো সতর্কবার্তা পাবেন না। তবে সতর্কতা কার্যকর থাকা অবস্থায় ওই এলাকায় প্রবেশ করলে বার্তাটি পাওয়া যাবে।
২০২০ সালের Royal Commission into National Natural Disaster Arrangements-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত Emergency Alert এসএমএস-ভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ধীরে ধীরে AusAlert চালু হবে।
ভবিষ্যতে নিচের পরিস্থিতিতে AusAlert ব্যবহার করা হবে—
দাবানল
বন্যা
ঘূর্ণিঝড়
জীবাণুজনিত বা বায়োসিকিউরিটি সংকট
মহামারি
জননিরাপত্তা বা সন্ত্রাসী হামলার মতো জরুরি পরিস্থিতি
কয়েকটি রাজ্য সরকার AusAlert নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রধান উদ্বেগগুলো হলো—
সব ধরনের ফোনে এটি কাজ করবে কি না
গোপনে ব্যবহৃত ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সতর্কবার্তা বাজতে পারে
ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় বার্তা না পাঠানোর পরিকল্পনা
দুর্গম এলাকার ল্যান্ডলাইন ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা
বিশেষ করে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্সল্যান্ড ল্যান্ডলাইন-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ক্রিস্টি ম্যাকবেইন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ল্যান্ডলাইন সমর্থন নিয়ে কাজ চলছে। তবে সেল টাওয়ারের পরিবর্তে শুধুমাত্র স্যাটেলাইট-সংযুক্ত ফোনে AusAlert পৌঁছাবে না। তিনি আরও বলেন, AusAlert চালু হলেও রাজ্য ও অঞ্চলগুলো তাদের নিজস্ব সতর্কতা ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে পারবে। ইংরেজিতে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর ভাষায়, “সাইরেনের শব্দ ভাষার বাধা অতিক্রম করতে পারে। মানুষ সাইরেন শুনলেই বুঝতে পারে যে জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”