অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে এইচ৫এন১ (H5N1) বার্ড ফ্লু শনাক্ত: পোলট্রি শিল্পে সতর্কতা

অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী এইচ৫এন১ (H5N1) বার্ড ফ্লু শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির পোলট্রি শিল্প সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার (WA) উপকূলীয় এলাকায় ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে। পার্থ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেপ লে গ্র্যান্ডের কাছে একটি ব্রাউন স্কুয়া (Brown Skua) পাখির শরীরে H5N1 ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এসপেরান্স অঞ্চলের উপকূলজুড়ে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার অসুস্থ বা মৃত পাখি সংক্রান্ত এক ডজনেরও বেশি রিপোর্ট পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ গ্রেট সাউদার্ন অঞ্চলে নজরদারি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করেছে। এ পর্যন্ত নতুন করে পাওয়া পাখিগুলোর মধ্যে কোনোটি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত না হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ফলে পুরো এলাকায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। এই শনাক্তকরণের মাধ্যমে H5N1 ভাইরাস থেকে দীর্ঘদিনের অস্ট্রেলিয়ার সুরক্ষাবলয় ভেঙে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস বন্য পাখির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পল গ্রিফিন রবিবার ‘সানরাইজ’ অনুষ্ঠানে বলেন, মূল ভূখণ্ডে ভাইরাসটির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, “ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এটি শনাক্ত হয়েছে। তাই এটি অস্ট্রেলিয়ায় আসা সময়ের ব্যাপারই ছিল।” তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।”

কর্তৃপক্ষের মতে, মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো কম। তবে ভাইরাসটি যদি বন্য পাখির বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার পোলট্রি শিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ পাখির মৃত্যু ঘটিয়েছে এবং অনেক দেশে কোটি কোটি পাখি নিধন করতে হয়েছে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য।

অধ্যাপক গ্রিফিন জানান, অস্ট্রেলিয়ার পোলট্রি শিল্প কয়েক বছর ধরেই এই ভাইরাসের সম্ভাব্য আগমনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সতর্কতা বজায় রাখা। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে ভাইরাসটি যদি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।”

স্থানীয় খামার, বন্যপ্রাণী কেন্দ্র এবং পর্যটন খাতও অতিরিক্ত সংক্রমণ শনাক্ত হলে সম্ভাব্য নতুন বিধিনিষেধের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন নির্ধারণ করা—আক্রান্ত পাখিটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি ভাইরাসটি ইতোমধ্যে মূল ভূখণ্ডের বন্যপ্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

অধ্যাপক গ্রিফিন বলেন, সাধারণ মানুষও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে অসুস্থ বা মৃত পাখির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “বিশেষ করে ওই এলাকায় পাখিদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলবে। কেউ যদি অসুস্থ বা মৃত পাখি দেখতে পান, তাহলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।”
যদিও H5N1 ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে, তবু মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক গ্রিফিন বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি সংক্রমণ। এজন্যই একে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ বলা হয়।” তিনি আরও বলেন, “তবে এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে খুব কম সংখ্যক সংক্রমণ দেখা গেছে এবং এটি সহজে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। তাই বর্তমানে মানুষের জন্য ঝুঁকি খুবই কম।”

কর্তৃপক্ষ জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে, কেউ যদি অসুস্থ বা মৃত পাখি দেখতে পান, তাহলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সম্ভব হলে ছবি তুলুন এবং বিষয়টি জরুরি প্রাণী রোগ হটলাইন ১৮০০ ৬৭৫ ৮৮৮ নম্বরে জানিয়ে দিন।