পবিত্র হজ শেষে পাকিস্তান সফরে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলিয়ান শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
স্বচ্ছ তদন্তের দাবি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের
পবিত্র হজ পালন শেষে পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে বেড়াতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসকারী ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী হানিয়া আহমেদ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানসহ প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবারটির সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
জানা গেছে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কিউডেল এলাকায় বসবাসকারী আহমেদ পরিবার সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন শেষে পাকিস্তানে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে যান। সফরকালে তারা পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা একটি ভাড়া করা গাড়িতে ভ্রমণকালে সশস্ত্র ছিনতাইকারীর মুখোমুখি হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়।
এ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করেন। পরিস্থিতির মধ্যে হানিয়ার পরিবারের গাড়িটিও দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে অপরাধীদের গাড়ি বলে মনে করেন। পরে তারা গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
পাঞ্জাব পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভুলভাবে ধারণা করেছিলেন যে ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগীদের গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হানিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার বাবা আদিল আহমেদ এবং বড় ভাই আহত হন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হানিয়ার মা শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে একটি নয় বছর বয়সী শিশুর এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আশা করি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত করবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিভাগটি নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এদিকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পাকিস্তানি কমিউনিটির নেতারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হানিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সে ছিল প্রাণবন্ত, বন্ধুসুলভ ও সবার প্রিয় একজন শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তান সফরে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলিয়ান শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
স্বচ্ছ তদন্তের দাবি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের
পবিত্র হজ পালন শেষে পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে বেড়াতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসকারী ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী হানিয়া আহমেদ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানসহ প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবারটির সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
জানা গেছে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কিউডেল এলাকায় বসবাসকারী আহমেদ পরিবার সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন শেষে পাকিস্তানে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে যান। সফরকালে তারা পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা একটি ভাড়া করা গাড়িতে ভ্রমণকালে সশস্ত্র ছিনতাইকারীর মুখোমুখি হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়।
এ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করেন। পরিস্থিতির মধ্যে হানিয়ার পরিবারের গাড়িটিও দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে অপরাধীদের গাড়ি বলে মনে করেন। পরে তারা গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
পাঞ্জাব পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভুলভাবে ধারণা করেছিলেন যে ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগীদের গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হানিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার বাবা আদিল আহমেদ এবং বড় ভাই আহত হন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হানিয়ার মা শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে একটি নয় বছর বয়সী শিশুর এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আশা করি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত করবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিভাগটি নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এদিকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পাকিস্তানি কমিউনিটির নেতারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হানিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সে ছিল প্রাণবন্ত, বন্ধুসুলভ ও সবার প্রিয় একজন শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।