অস্ট্রেলিয়ায় অ্যান্টিসেমিটিজম ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন ১৪টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সব স্তরের সরকারকে জাতীয়ভাবে সমন্বিত অস্ত্র আইন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এই রয়্যাল কমিশনটি বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করছে, যেখানে ১৪ ডিসেম্বর হনুকা উদযাপনের সময় ১৫ জন নিহত হন। অভিযুক্ত বন্দুকধারী নাভিদ আক্রমের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তার বাবা ও সহ-শুটার সাজিদ আক্রম নিহত হন।
রয়্যাল কমিশনার ভার্জিনিয়া বেল তার অন্তর্বর্তী রিপোর্টে মোট ১৪টি সুপারিশ তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে ৫টি প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্য এবং বিচারাধীন মামলাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষয়গুলো প্রকাশ্য প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।
প্রকাশিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• সারা অস্ট্রেলিয়ায় যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী দলগুলোর (Joint Counter Terrorism teams) পর্যালোচনা এবং দ্রুত রিপোর্ট পুলিশ কমিশনারদের কাছে জমা দেওয়া;
• কমনওয়েলথ, রাজ্য ও টেরিটরি সরকারগুলোর সমন্বিত জাতীয় অস্ত্র আইন এবং একটি জাতীয় অস্ত্র পুনঃক্রয় (buyback) কর্মসূচি বাস্তবায়ন;
• ফেডারেল নির্বাচনের নয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মন্ত্রীরা এবং ন্যাশনাল ক্যাবিনেট সদস্যদের নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা;
• নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ইহুদি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো।
কমিশনার বেল বলেন, বিদ্যমান আইন বা নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কোনো বড় ঘাটতি তিনি খুঁজে পাননি, যা এই ধরনের হামলা প্রতিরোধ বা প্রতিক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
গোপন সুপারিশগুলোর একটি ছিল অস্ট্রেলিয়ান ফায়ারআর্মস ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (AFIN)-এ আরও উন্নত প্রবেশাধিকারের প্রস্তাব। এতে আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত এবং সঠিক অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারবে, যা সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
ন্যাশনাল ক্যাবিনেটের ঘোষিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্কারগুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে নতুন নিষিদ্ধ ও অবৈধ অস্ত্র কিনে নেওয়ার জাতীয় কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার একজন ব্যক্তির হাতে থাকা অস্ত্রের সংখ্যার সীমা নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোম অ্যাফেয়ার্স, ASIO এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স কমিশন মনে করে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে উগ্রবাদী বা সংগঠিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বৈধভাবে অস্ত্র পাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, কমনওয়েলথ সংশ্লিষ্ট সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তারা কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করবে, তবে চলমান তদন্তের কারণে তারা আর মন্তব্য করতে পারছে না।
আগামী সপ্তাহ থেকে কমিশনের প্রথম দফার গণশুনানি শুরু হবে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যান্টিসেমিটিজমের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দেবেন। কিছু শুনানি জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে এবং পরবর্তী পাঁচ মাস ধরে শুনানি চলবে।
ইতোমধ্যে ৩,৫০০-এর বেশি জমা (submission) কমিশনে জমা পড়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন হামলার প্রথম বার্ষিকীর আগেই প্রকাশ করা হবে। কমিশনার বেল বছরের শেষ পর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন সুপারিশ দিতে পারবেন।