‘আমরা কি শুধু শুনেই যাব?’— সেই এক প্রশ্নেই জন্ম নিল ব্যান্ড “প্রবাসী”

প্রবাস জীবনের এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। দিনগুলো কেটে যায় খুব দ্রুত—কাজ, দায়িত্ব, সময়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে সপ্তাহ, মাস, বছর পেরিয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত আসে—খুব ছোট, খুব সাধারণ—যা হঠাৎ করেই আমাদের থামিয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার এই পরবাসে ক্লান্তিতে শরীর যখন নুয়ে আসত, তখন কোনো এক নিঝুম সন্ধ্যায় আমাদের কেউ একজন হয়তো অস্ফুট স্বরে বলে উঠত— “একটা বাংলা গান শুনবি?” সেই একটা অনুরোধেই যেন জমানো সব মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চাইত। ইউটিউবে যখন পুরোনো সেই দিনের গান কিংবা প্রিয় কোনো ব্যান্ডের চিরচেনা সুরটা বেজে উঠত, তখন চারপাশের এই ঝকঝকে বিদেশের আকাশটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে আসত।

অদ্ভুত সেই অনুভূতি! ওই কয়েক মিনিটের জন্য আমাদের মনেই থাকত না যে আমরা হাজার মাইল দূরে কোনো এক অচেনা তটরেখায় দাঁড়িয়ে আছি। সুরের সেই মায়াবী ডানায় চড়ে আমরা নিমেষেই ফিরে যেতাম শেকড়ের টানে—শৈশবের সেই চেনা গলিতে, বন্ধুদের সাথে প্রাণখোলা আড্ডায়, কিংবা মায়ের হাতের সেই মায়ামাখা পরশে। বাইরে তখন হয়তো অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত শহর জেগে আছে, কিন্তু আমাদের মনের গহীনে তখন বেজে উঠত কেবলই ফেলে আসা দেশের মাটি আর মানুষের ঘ্রাণ। সেই সুরটুকুই তো আসলে আমাদের এই নির্বাসিত জীবনের এক চিলতে ঘর।

এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ছিল আমাদের কাছে খুব ব্যক্তিগত—একটা নীরব আশ্রয়। আমাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা ছিল, পথ আলাদা ছিল। কিন্তু একটা জায়গায় আমরা সবাই একই ছিলাম— আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে মিউজিকের সাথে জড়িত ছিলাম। কেউ ব্যান্ডে বাজিয়েছি, কেউ একা গিটার হাতে বসে থেকেছি, কেউ বন্ধুমহলে গান গেয়েছি, কেউ স্টেজে পারফর্ম করেছি। মিউজিক আমাদের সবার জীবনের অংশ ছিল—প্রবাসে আসার আগেও, প্রবাসে আসার পরেও। তবুও, কোথাও যেন একটা অভাব থেকে যাচ্ছিল। ২০২৫-এর সেই প্রথম লগ্নটির কথা এখনো মনের কোণে উজ্জ্বল হয়ে আছে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন বছরে পা রেখেছিলাম আমরা সবাই; চোখে নতুন স্বপ্ন, কাঁধে নতুন সব ব্যস্ততা। চারপাশের পৃথিবীটা যখন সামনের দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে, ঠিক তখনই আমাদের ভেতরে কোথাও একটা শূন্যতা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের এই যান্ত্রিক দৌড়ে খুব দামী কিছু একটা হারিয়ে ফেলছি।

চারপাশের পৃথিবীটা যখন সামনের দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে, ঠিক তখনই আমাদের ভেতরে কোথাও একটা শূন্যতা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের এই যান্ত্রিক দৌড়ে খুব দামী কিছু একটা হারিয়ে ফেলছি।

ঠিক সেই সময়েই পিয়াস ভাইয়ের সাথে সাধারণ কিছু আড্ডা শুরু হলো। খুব সাদামাটা আলাপ—কোন গানটা বেশি টানছে, কোন ব্যান্ডের সুরটা এখনো হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়, কিংবা গানের কোন কথাগুলো শুনলে আজও অজান্তেই চোখ ভিজে ওঠে। কিন্তু সেই আড্ডার আড়ালে যে এক গভীর সুরের বীজ বোনা হচ্ছিল, তা আমরাও বুঝিনি।

হঠাৎ একদিন পিয়াস ভাই একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন— “আমরা কি শুধু শুনেই যাব?”

সেই একটি ছোট প্রশ্ন যেন আমাদের থমকে দিল। প্রশ্নটা কেবল শোনার ছিল না, ছিল নিজেদের অস্তিত্বকে চেনার। আমরা যারা প্রবাসের এই ব্যস্ত জীবনেও হৃদয়ের অনেকটা জুড়ে বাংলা গানকে লালন করি, যারা সুরের মাঝেই নিজের দেশ আর শেকড়কে খুঁজে পাই—আমাদের কি আর কিছু করার নেই? এই সুরের তৃষ্ণা কি শুধু নিজেদের চার দেয়ালের মধ্যেই আটকে থাকবে? নাকি আমরা একে একটা নতুন রূপ দেব? সেই টান থেকেই শুরু হলো এক নতুন আর অনিশ্চিত যাত্রা। আমাদের মাঝে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ পরিকল্পনা ছিল না, ছিল না কোনো বড় ঘোষণা। এমনকি ‘ব্যান্ড গড়তে হবে’ এমন কোনো আনুষ্ঠানিক মুহূর্তও আসেনি। ছিল শুধু এক অদৃশ্য সুরের সুতো, যা আমাদের একে অপরকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছিল। আজ ফিরে তাকালে মনে হয়, সেই প্রথম দিকের অগোছালো জ্যাম সেশনগুলোতেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত যাদু। আমাদের সেই অসম্পূর্ণ সুরগুলোর মাঝেও যে কী এক গভীর মিল ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই ‘ক্লিক’ করা মুহূর্তগুলোই আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল—আমরা আসলে কেউ কারো অপরিচিত নই, আমরা সবাই একই সুরের খোঁজে ঘরছাড়া কটি প্রাণ। সেই সুরের টানেই আজ আমরা এক ঠিকানায়।

Moula — Vocal & Rhythm Guitar: যিনি শুধু গান করেন না—তার কণ্ঠে আছে আবেগ, শক্তি আর গল্প বলার এক আলাদা ক্ষমতা। স্টেজে তিনি শুধু একজন গায়ক নন, তিনি দর্শকদের সাথে সংযোগ তৈরি করেন। “প্রবাসী” নামটিও তারই দেওয়া—একটা নাম, যার ভেতরে আমাদের সবার পরিচয়, অনুভূতি আর যাত্রা একসাথে ধরা আছে।

Piyash — Vocal: যার সাথে সেই প্রথম আলাপ থেকেই এই গল্পের শুরু। তার কণ্ঠ শক্তিশালী, গভীর—যে কণ্ঠ শুধু গান গায় না, অনুভূতিকে তুলে ধরে। আমাদের যাত্রার পেছনে তার অনুপ্রেরণা সবসময়ই ছিল এবং আছে।

Rabeeb — Lead Guitar: দীপু ভাইয়ের ছেলে, অস্ট্রেলিয়াতেই বড় হয়েছে। কিন্তু যখন সে বাংলা গান বাজায়, তখন মনে হয়—শিকড় কখনও হারায় না। সে যেন দুই প্রজন্মের মাঝে এক সেতুবন্ধন—আমাদের অতীত আর ভবিষ্যতের মাঝে।

Arefin — Lead Guitar: তার গিটারের প্রতিটি নোটে থাকে এক ধরনের অনুভূতির গভীরতা। সে শুধু বাজায় না—সে গানের ভেতরের আবেগকে তুলে আনে, গানে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

Dipu — Bass: অভিজ্ঞতা, স্থিরতা আর মিউজিকের গভীর বোঝাপড়া—এই তিনটি জিনিস তাকে আলাদা করে। সে আমাদের সাউন্ডের ভিত, যিনি পুরো ব্যান্ডকে একসাথে বেঁধে রাখেন নিঃশব্দে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।

Biju — Drums: একজন seasoned drummer, যার রিদমে আছে বছরের অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলা ভাষা না বুঝলেও, সুর আর বিটের মাধ্যমে পুরো অনুভূতিটা ধরতে পারেন। প্রতিটি বিটে তিনি আমাদের গানের প্রাণ এনে দেন।

Anthony — Keyboard: একজন অভিজ্ঞ সংগীতশিল্পী, যিনি ভাষার সীমা ছাড়িয়ে শুধুমাত্র সুরের মাধ্যমে আমাদের সাথে একাত্ম হয়ে গেছেন। তার বাজনায় আমাদের গানে আসে পরিপূর্ণতা, গভীরতা আর এক ভিন্ন মাত্রা।

প্রথমবার যখন আমরা একসাথে বসে জ্যাম করলাম, সেটা কোনো পারফেক্ট সেশন ছিল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমরা বুঝে গিয়েছিলাম— এটা শুধু গান না। এটা আমাদের গল্প।আজ আমরা বাংলা রক, বাংলা ফোক—এই দুই ধারার গান নিয়েই কাজ করছি। এই সুরগুলোই আমাদের বড় করেছে, আমাদের গড়ে তুলেছে—আর আমরা সেই সুরই ফিরিয়ে দিতে চাই। (আসলে আমাদের গানের ভেতরে থাকে সেই পুরোনো দিনের টান, একটা চলমান স্পন্দন, আর মানুষের সাথে সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা।)

একই সাথে আমরা আমাদের নিজস্ব অরিজিনাল গান নিয়েও কাজ করছি। আমাদের কাজের ধরনটা খুব স্বাভাবিক—কখনো একটা সুর, কখনো একটা লাইন, কখনো শুধু একটা অনুভূতি থেকে শুরু হয় সবকিছু। তবে আমরা বিশ্বাস করি, গান শুধু তৈরি করলেই হয় না—গানকে অনুভব করতে হয়, সময় দিতে হয়। তাই আমরা চাই, যখন আমরা আমাদের অরিজিনাল গান আপনাদের সামনে নিয়ে আসব, তখন সেটা যেন আমাদের সেরা কাজ হয়—যেটা আমরা নিজেরাও গর্ব করে বলতে পারি, “হ্যাঁ, এটা আমাদের।”

লাইভ স্টেজে ওঠার পর সেই অনুভূতিটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা নিজেদের সবসময় একটা live band হিসেবেই দেখি—যেখানে দর্শকদের সাথে সেই সরাসরি সংযোগটাই সবচেয়ে সত্যি। দর্শকদের মধ্যে কেউ চোখ বন্ধ করে গান শুনছে, কেউ আস্তে আস্তে গাইছে, কেউ হয়তো শুধু দাঁড়িয়ে আছে—কিন্তু তার চোখে একটা অন্যরকম অনুভূতি। সেই মুহূর্তে মনে হয়— আমরা সবাই একই জায়গায় আছি। প্রবাসে থেকেও আমরা আলাদা নই।

সময়ের স্রোতে আমাদের জীবনের অনেকটা পথ বদলে গেছে। বদলে গেছে চারপাশের চেনা শহর, গলি আর প্রতিদিনের পরিচিত মুখগুলো। প্রবাসের এই যান্ত্রিকতায় আমরাও হয়তো অনেক সময় বদলে যেতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এই এতসব পরিবর্তনের ভিড়েও বুকের বাম পাশে কিছু জিনিস আজও অবিকল আগের মতোই রয়ে গেছে। বাংলা গানের প্রতি সেই আজন্ম ব্যাকুলতা, নিজের সংস্কৃতির সেই চিরচেনা ঘ্রাণ আর হাজার ভিড়ের মাঝেও নিজের শেকড়কে চিনে নেওয়ার সেই তীব্র আকুতি—এগুলো কখনো বদলায় না, বদলাতে পারে না।

“প্রবাসী” কেবল একটি নাম নয়, বরং আমাদের সেই নাছোড়বান্দা ভালোবাসারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি আমাদের সেই লড়াইয়ের অংশ, যেখানে আমরা হারিয়ে যেতে যেতেও নিজেদের অস্তিত্বকে জাপ্টে ধরে রাখি। আমাদের এই সুরের যাত্রা আসলে নিজেদের পরিচয়কে পরবাসের আকাশে অক্ষুণ্ণ রাখার এক সযত্ন প্রচেষ্টা।

আমরা হয়তো ঘর ছেড়েছি বহুকাল, কিন্তু এই সুরগুলোর মধ্য দিয়েই আমরা রোজ ঘরে ফিরি। “প্রবাসী”—আমাদের সেই ফেরার ঠিকানার নাম।

আমরা হয়তো ঘর ছেড়েছি বহুকাল, কিন্তু এই সুরগুলোর মধ্য দিয়েই আমরা রোজ ঘরে ফিরি। “প্রবাসী”—আমাদের সেই ফেরার ঠিকানার নাম। আমাদের স্বপ্নগুলো আকাশছোঁয়া কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং মাটির খুব কাছাকাছি থাকা এক বিনম্র আকুতি। আমরা শুধু চাই—অস্ট্রেলিয়ার এই তপ্ত রোদে আর যান্ত্রিক ব্যস্ততায় বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন বাংলা গানকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারে। তারা যেন কেবল সুরটা কানে না নেয়, বরং প্রতিটি শব্দকে নিজের বলে অনুভব করতে শেখে; যেন গানের প্রতিটি ভাঁজে তারা নিজেদের শিকড়কে খুঁজে পায়।

তাই তো আমাদের এই নিরন্তর পথচলা। স্টেজের আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিটি সুরের মূর্ছনা, কিংবা আমাদের উপস্থাপনা—সবকিছুতে আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছি। আমরা চাই যখন পর্দা উঠবে, তখন যেন শ্রেষ্ঠটুকুই আপনাদের কানে পৌঁছায়।

কারণ আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি—এই ব্যান্ডটা শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়। এই সুরগুলো কেবল আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। ‘প্রবাসী’ আসলে এই সুদূর পরবাসে থাকা প্রতিটি বাঙালির বুকের ভেতর জমে থাকা না বলা কথা, এক টুকরো বাংলাদেশ আর এক পশলা নস্টালজিয়া। এটা আমাদের সবার ব্যান্ড, এটা প্রতিটি প্রবাসী বাঙালির একান্ত নিজের গল্প। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের এই সুরের তরীকে এগিয়ে নেওয়ার একমাত্র সাহস।

আমাদের এই সুরের পথচলাটা যতটা না আমাদের, তারচেয়েও বেশি আমাদের পরিবারের। এই দীর্ঘ যাত্রায় পর্দার আড়ালে থাকা মানুষগুলোর অবদান আমরা কখনো শব্দে প্রকাশ করতে পারব না। প্রবাসের এই ব্যস্ত জীবনে যখন আমরা গানের নেশায় ডুবে থেকেছি, তখন আমাদের পরিবারের মানুষগুলো নিরবে তাদের সমর্থন, অপরিসীম ধৈর্য আর মমতা দিয়ে আমাদের আগলে রেখেছেন। তাদের সেই ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছাড়া আমাদের পক্ষে এক পা এগোনোও হয়তো সম্ভব হতো না।

আমাদের প্রতিটি রিহার্সাল, প্রতিটি রাতজাগা সুর কিংবা প্রতিটি ছোট-বড় আয়োজনের পেছনে লুকিয়ে আছে তাঁদের হাসিমুখের আত্মত্যাগ। আপনাদের এই নিঃশর্ত ভালোবাসা আর সমর্থনই আমাদের হৃদস্পন্দন, আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা আজও স্বপ্নের পেছনে ছোটার সাহস পাই। আমাদের এই সুরের তরী আপনাদেরই ভালোবাসার আশ্রয়ে নোঙর ফেলে আছে।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এবং আমাদের এই যাত্রার অংশ হতে আমাদের ফেসবুক পেজ “Probashi Band Official”-এ লাইক ও ফলো করার জন্য সবাইকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। হয়তো কোনো একদিন, কোনো এক গানের মাধ্যমে, আমরা সবাই আবার ফিরে যাব সেই চেনা অনুভূতির কাছে— যেখানে আমাদের শুরু।

‘প্রবাসী’ ব্যান্ড আমাদের কাছে শুধু সুরের সমষ্টি নয়, এটি আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ, আমাদের এক চিলতে ঘর। যেদিন চারপাশের সবকিছু খুব বেশি অচেনা মনে হবে, সেদিন আমাদের গানগুলো যেন আপনাদের কানে কানে এসে বলে যায়— “ভয় নেই বন্ধু, তোমার শিকড় তোমার সাথেই আছে।”

সবশেষে রয়ে যায় সেই সুর, যা সীমানা মানে না, যা দেশান্তরের ক্লান্তি মুছে দিয়ে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় আমাদের শৈশবের উঠোনে। হয়তো কোনো কনসার্ট হল থেকে বেরিয়ে আমরা আবার সেই যান্ত্রিক জীবনেই ফিরে যাব, আবার শুরু হবে সময়ের সাথে পাল্লা দেওয়া। কিন্তু আমাদের কানে তখনো গুঞ্জরিত হবে সেই চিরচেনা বাংলার সুর, যা আমাদের মনে করিয়ে দেবে—আমরা একা নই। এই পরবাসে আমরা হয়তো এক একজন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, কিন্তু সংগীতের এই অদৃশ্য সুতোটি আমাদের গেঁথে রেখেছে একই মালায়। ‘প্রবাসী’ ব্যান্ড আমাদের কাছে শুধু সুরের সমষ্টি নয়, এটি আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ, আমাদের এক চিলতে ঘর। যেদিন চারপাশের সবকিছু খুব বেশি অচেনা মনে হবে, সেদিন আমাদের গানগুলো যেন আপনাদের কানে কানে এসে বলে যায়— “ভয় নেই বন্ধু, তোমার শিকড় তোমার সাথেই আছে।” সুরের এই বাঁধনে আমরা বাঁধা থাকব আজীবন; কারণ দিনশেষে আমরা সবাই সেই হারানো সুরেরই খোঁজে ছুটে চলা একেকজন চিরন্তন প্রবাসী। ভালোবাসা রইল….