অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহ এখন মে মাসের অনেকটা সময় পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। ইস্টার ছুটির সময় দেশজুড়ে যেসব সার্ভিস স্টেশনে ডিজেল ও পেট্রোলের ঘাটতি ছিল, তার সংখ্যা কমেছে—যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তেলের সংকটের কারণে দেশে জ্বালানির চাহিদা ও দাম বাড়তে থাকায় সামনে কয়েক মাস “সহজ নাও হতে পারে”।
এর আগে সরকার জানিয়েছিল যে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বোয়েন বলেন, এখন মে মাসের জন্যও সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, “সব অর্ডার চুক্তিবদ্ধ এবং নিশ্চিত। একবার চুক্তি হয়ে গেলে, সেই জ্বালানি অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানির মালিকানায় চলে আসে… এটি আইনি দিক থেকে সুরক্ষিত, যা আশাব্যঞ্জক।” তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ঝুঁকি অবশ্যই আছে, তবে যতটা সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ২৭৪টি সার্ভিস স্টেশনে ডিজেল নেই, যা গুড ফ্রাইডেতে ৪০০-র বেশি ছিল। নিউ সাউথ ওয়েলসে, যেখানে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেখানে ৬ শতাংশ স্টেশনে ডিজেল নেই। অন্য রাজ্যগুলোতে এই হার সাধারণত ২ থেকে ৩ শতাংশ।
বোয়েন বলেন, “নিউ সাউথ ওয়েলসে কৃষকরা বপন মৌসুমে থাকায় তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে সেখানে ঘাটতি কিছুটা বেশি ছিল, তবে এখন তা কমছে।”
বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি:
* নিউ সাউথ ওয়েলস: ১৪২টি স্টেশনে ডিজেল নেই, ৩৯টিতে কোনো জ্বালানি নেই
* ভিক্টোরিয়া: ৫১টিতে ডিজেল নেই, ৩০টিতে আনলেডেড নেই
* কুইন্সল্যান্ড: ৩৮টিতে ডিজেল নেই, ৩২টিতে আনলেডেড নেই
* সাউথ অস্ট্রেলিয়া: ৯টিতে ডিজেল নেই, ৫টিতে আনলেডেড নেই
* ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া: ১৯টিতে ডিজেল নেই, ২৯টিতে আনলেডেড নেই
* তাসমানিয়া: ৭টিতে ডিজেল নেই, ৭টিতে আনলেডেড নেই
* নর্দার্ন টেরিটরি: ৪টিতে ডিজেল নেই, ৪টিতে আনলেডেড নেই
* অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি: ৪টিতে ডিজেল নেই, ২টিতে আনলেডেড নেই
শুক্রবার বোয়েন জানান, এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর রিফাইনারি থেকে ৫৩টি জ্বালানি-বাহী জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার পথে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি স্বাক্ষর করেছে, এবং সরকার অন্যান্য এশীয় দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ কোনো জাহাজ বাতিল হয়নি, বরং অতিরিক্ত সরবরাহ আসছে।”
বর্তমানে দেশের জ্বালানি মজুত:
পেট্রোল: ৩৯ দিনের, ডিজেল: ২৯ দিনের, জেট ফুয়েল: ৩০ দিনের
বোয়েন বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পরিমাণ মোটামুটি একই রয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতির উদ্দেশে এক বিরল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জনগণকে সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করার আহ্বান জানান, যাতে জ্বালানি সাশ্রয় হয়। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, মানুষ যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, “সময়টা অনিশ্চিত, তবে আমি নিশ্চিত—আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের মতো একসঙ্গে কাজ করে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।”
Source: ABCNEWS