কবীর আহমেদ: গভীর রাতে পারুলের সেলফোনটা তীব্রভাবে বেজে উঠল।বেশ কয়েকবার রিংটোনের শব্দে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা নিলো। সেলফোনটা হাতে নেওয়ার সময় মনে হলো প্রতিদিন সেলফোনটা নিরব করে ঘুমায়। আজ কি কারনে ভুলে গেছে। ফোনের দিকে তাকাতেই দেখলো শিমুলের ফোন। তখনি মনে হলো বান্দর টার জন্য এখন ভুলের মাশুল দিতে হবে।
পারুল: হ্যালো বাদরামি করার সময় পেলেনা এই গভীর রাতে বাদরামি করতে হবে।
শিমুল : কোন বাদরামি না। সিরিয়াস একটা বিষয়।
পারুল :সিরিয়াস বিষয় এ জীবনে ২৩ হাজার ৩২ শো ২৯ বার শুনেছি। এবার কি একটু দয়া করতে পারো।
শিমুল :প্লিজ একটু শোনো
পারুল :আচ্ছা তুমি মহাবান্দর বলে সামান্য ভদ্রতাও তোমার মধ্যে নেই। এই গভীর রাতে চিড়িয়াখানা আর বনের সকল বানর ঘুমাচ্ছে। আর তুমি জেগে আমাকে জ্বালানোর জন্য বান্দর খেলা দেখাতে চাও।
আমাকে তোমার বান্দরিও পারফরম্যান্স দেখিয়ে কি অর্জন করো।
শিমুল :সিরিয়াসলি এটা কোন পারফরম্যান্স না। বিষয় ভালোবাসার…………..
পারুল :ওরে বান্দর তোমার চরিত্র আমি জানি। তুমি অসভ্যের ডিব্বা। ভালোবাসার কথার নাম করে ধীরে ধীরে অসভ্যতার দিকে নিয়ে যাবি।ভালোবাসা সাধারণ কোন বিষয় না। ভালোবাসা কথাটি অসাধারণ করে বলতে হয়। সাধারণত তো দূরের কথা খুব সাধারণ করে আজও বলতে পারোনি। অসভ্যতা করার জন্য এই গভীর রাতে চান্স নিতে চাও?
শিমুল : কোন চান্স না। এটা অসাধারণ ভালোবাসার স্বপ্ন।
পারুল: তোমাকে আর কতবার বলবো আপাতত তোমাকে ভালোবাসর কোন ইচ্ছে আমার নেই, তোমাকে ভালোবাসার ইচ্ছে অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছে। কেন আমার সাথে বান্দরামি করো?
শিমুল: ঠিক আছে। আমাকে আপাতত একটা জ্ঞান ধার দাও। বলত মহান বান্দররা কি স্বপ্ন দেখে?
পারুল: ওরে বান্দর। বান্দরা স্বপ্ন দেখে কি দেখেনা এই বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। কাল সকালে কোন পরশু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে জেনে নিও।
শিমুল : পশু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে না। আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি। খুবই জরুরী এবং জন গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন। স্বপ্নটা তোমাকে বলতে চাই। তুমি ছাড়া এ জগতে আমার আর কেহ নাই নাই…….. নাই গো……..
পারুল : হয়েছে বান্দরের গলায় গান করতে হবে না।এ জগত কেন? কোন জগতেও আমি তোমার কেউ হবো না।
শিমুল : প্লিজ শোন। এখন যদি বলতে না পারি তাহলে স্বপ্নটা ভুলে যাব। মানুষ স্বপ্ন পুরোপুরি মনে রাখতে পারে না। আবার বলার সময় স্বপ্নে যা যা দেখেছে সম্পূর্ণ বলতে পারেনা।
পারুল : ওরে স্বপ্ন বিশেষজ্ঞ।বান্দরের এত জ্ঞান। ঠিকমতো পড়াশোনা করলে এতদিনে একটা চাকরি পেতা। তাহলে হয়তো বান্দরিও জীবন থেকে মুক্তি পেতে।
পারুল বুঝতে পারছে এখন যত কথাই সে বলুক না কেন শিমুল তার স্বপ্নের কথাটা বলবেই।সেল ফোন নীরব না করেছে যে ভুল করেছে তার মাশুল তাকে দিতেই হবে। বান্দরটাকে লাই দিয়েছে। মাথায় উঠে তার স্বপ্নের কথা আমার মাথায় ট্রান্সফার করবেই। অসম্পূর্ণ ঘুমটা আর সম্পূর্ণ করতে পারবো না।
পারুল : বুঝলাম তুমি স্বপ্ন দেখেছো। পারলে ধারাবাহিক নাটকের মত কয়েক হাজার পর্বের স্বপ্ন দেখো। তুমি স্বপ্নে কি দেখেছো তা আমার জানতে হবে কেন?
শিমুল : কারণ স্বপ্নের ভেতর দুজন মানুষ ছিল জগৎ বিখ্যাত। যে স্বপ্নে দুজন জগত বিখ্যাত মানুষ থাকে সেই স্বপ্নটা বলা অনেক জরুরী। আমি নিশ্চিত স্বপ্নটা জানার পর আগামীকাল তোমার সব কিছু ভাল লাগবে। এমনকি বান্দর কেও ভালো লাগবে আর তাকে ভালবাসবে।
পারুল : থাক আমার ভালোলাগা নিয়ে তোমার বয়ান না দিলেও চলবে। আমার ভালো লাগা যদি বুঝতে তাহলে অনেক আগেই…………গভীর রাতে স্বপ্ন দেখতে হতো না। যাক স্বপ্নের কথা বল আমি শুনছি।
শিমুল : ইনফিনিটি ধন্যবাদ সাথে সায়দাবাদ এবং আগ্রাবাদ। আমি দেখলাম এক সোনালী বিকেলে ড. হুমায়ূন আহমেদ ওপারের যে অজানা দেশে তারে স্থায়ী বসবাস সেখানে সে ভ্রমণে বেরিয়েছে। ভ্রমণপথে সে অপলক নয়নে দেখতে পাচ্ছে স্বচ্ছ ঝরনা ধারা। সুশোভিত ফুলের বাগানে ফুলকলিদের আনন্দ নিত্য, প্রবাহমান শ্রান্ত স্রোতের নদী। নানা বৃক্ষদের সারি সারি মিছিল যেন তার কাব্য সাহিত্য পাঠ করে যাচ্ছে। অসম্ভব সুন্দর নয়নাভিরাম পরিবেশ। ভ্রমণের এই ক্ষণে হুমায়ূন আহমেদ বিশাল এক নীল পদ্ম দেখতে পায়। এত বিশালাকৃতি নীল পদ্ম হতে পারে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কৌতহল আর বিশ্রামের আশায় সে নীল পদ্মের পাদদেশে গিয়ে বসে। আশ্চর্য! নীল পদ্ম নয় এক বিশাল নীল পাহাড়। চারদিকে কেমন গোলাপী আভায় আলোকিত। বিশেষ এক ভালো লাগা কাজ করে হুমায়ূন আহমেদের।আহা যদি এপারের জীবনে এমন নীল পাহাড়ে নীচে বসতে পারতাম তাহলে একটা…… লেখার সৃষ্টি হতো। কিন্তু কেন যেন এ নিয়ে কোন আফসোস হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না বুঝতে পারলেন না।ওপারে বোধহয় আফসোস বলে কিছু নেই। দৃষ্টিতে ভেসে ওঠে ঠিক অনতি দূরে বসে আছে সুন্দরী এক মায়াবী। মায়াবীকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। তাইতো মায়াবীকে চিনে। এপারের জীবনে তার সাথে কখনো পরিচয় হয়নি। হুমায়ূন আহমেদ কাছে গিয়ে কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করলে মায়াবী সহাস্যে বিনয়ের সাথে অনুমতি মঞ্জুর করেন। আপনি ছিলেন এপারের জগতের জগৎ বিখ্যাত প্রিন্সেস ডায়না। আপনার রূপে গুনে পৃথিবীবাসী ছিল মুগ্ধ। আপনার রুপে পাগল ছিল তরুণ বৃদ্ধ অগণিত মানুষ। আমার জানতে ইচ্ছে করছে এমন জগত বিখ্যাত মানবী কেন ভালবেসে সুখী হতে পারল না। ভালোবাসার জন্য কেন তাকে প্রাণ দিতে হলো। তবে আমার জানার ইচ্ছে কে আপনি নাকচ করে দিতে পারেন।সে স্বাধীনতা আপনার আছে। মায়াবী এক গাল হেসে বিনয়ের সাথে হুমায়ূন আহমেদকে পাল্টা প্রশ্ন করে। আপনিও তো এপারের জীবনে বিখ্যাত সাহিত্যিক নাট্যকার নির্দেশক কবি চিত্রকর ছিলেন। অগণিত পাঠক ভক্ত ছিল আপনার। আপনিও তো ভালবেসেছিলেন। আপনি সুখী কিংবা দুঃখী হয়েছিলেন কিনা জানতে চাইছি না।কিন্তু প্রবল ভাবে জানতে ইচ্ছে করছে “ভালোবাসা” কি?আপনি সৃজনশীল মানুষ। শিল্প সাহিত্যের সব শাখায় অনবদ্য সৃষ্টি। লেখদের কল্পনাশক্তি প্রবল। তারা ঘোর অন্ধকার আমাবস্যাতেও পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পায়। ভালোবাসে? নাকি ভালোবাসবো বলেই ভালোবাসে ? প্রিন্সেস ডায়নার প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টায় এপারে জীবনের ভালবাসার গান, কবিতা, কাব্য, উপন্যাস, রং, ছবি মনে করার চেষ্টা করতে থাকেন। শত চেষ্টা করেও হুমায়ূন আহমেদ কোন কিছু মনে করতে পারে না। হুমায়ূন আহমেদ প্রিন্সেস ডায়নার দিকে দৃষ্টি মেলে। সমস্ত অবয়ব জুড়ে অনিন্দ্য হাসি মাখা মুখ। প্রিন্সেস ডায়নার হাসিমাখা মুখ থেকে হুমায়ূন আহমেদের দৃষ্টি বদলায় নীল পাহাড়ের চূড়ায়। দেখে রং বেরঙের আকাশ। সে আকাশের ভিতর আরেকটা আকাশ। সে আকাশে গারো গোলাপি রঙে লেখা ভালোবাসবো বলেই ভালোবাসি।
জানো পারুল তারপর দেখলাম প্রিন্সেস ডায়না……… পারুল, পারুল। হ্যালো হ্যালো শুনছো শুনছো……
কত শতক্ষণ অসাধারণ ভাবে বলতে চেয়েছি ভালোবাসার কথা তোমাকে। সেই কথাই এখন নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে নি:শংকচে বলতে পারবো। পারুল পারুল….
পারুল ফোন কখন বন্ধ করেছে? আমার স্বপ্ন টা কি পারুল শুনেনি? আবার কল দিব? এখন কয়টা বাজে? রাতের ছুটিতে ভোরের আগমনীর সুরধ্বনী শোনা যায়। শিমুল বারান্দায় এসে দাড়ায়। দূর আকাশে নয়ন মিলে। ওই যে আকাশের।আকাশের ভিতর আর এক আকাশ। সে আকাশ কি কোন মানব মানবীর ভালোবাসার আকাশ।