যুদ্ধের প্রভাব থেকে অস্ট্রেলিয়ানদের রক্ষায় ‘সবকিছু’ করার প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ানদের শান্ত থাকার এবং দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি| বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি নাগরিকদের জ্বালানি মজুদ না করার এবং অন্যদের কথা ভাবার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। এই ভাষণটি দেশের সব টেলিভিশন নেটওয়ার্কে একযোগে সম্প্রচার করা হয়—যা সাধারণত বড় ধরনের সংকট, যেমন কোভিড-১৯ মহামারি বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় দেখা যায়।

ভাষণে অ্যান্থনি আলবানিজি বলেন, “আমরা এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব অস্ট্রেলিয়ানদের মতো করে—একসঙ্গে কাজ করে এবং একে অপরের যত্ন নিয়ে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আগামী কয়েক মাস অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও দেশের স্বার্থে সচেতন ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন তিনি। ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “এই অনিশ্চিত সময়ে আমরা কীভাবে আমাদের দেশকে সাহায্য করতে পারি এবং একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি—সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

আমাদের কথা’র পাঠকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি তুলে ধরা হলো:

আমার প্রিয় অস্ট্রেলিয়ান সহনাগরিকবৃন্দ,

স্বভাবগতভাবেই আমরা একটি আশাবাদী জাতি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে ইতিবাচক থাকা কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। তবুও এর প্রভাব হিসেবে সব অস্ট্রেলিয়ানকেই বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

আমি জানি, আপনারা এই চাপটি পেট্রোল পাম্পে এবং সুপারমার্কেটে অনুভব করছেন। এবং আমি বুঝি, কৃষক, ট্রাকচালক, ছোট ব্যবসা এবং পরিবারগুলো কঠিন সময় পার করছে। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা আমাদের সঙ্গে আরও কয়েক মাস থাকবে। আজ রাতে, আমি আপনাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাই—এই অনিশ্চিত সময়ে সরকার কী করছে আপনাদের সুরক্ষার জন্য। এবং আমরা প্রত্যেকে কীভাবে আমাদের দেশ এবং একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।

সোমবার, ন্যাশনাল ক্যাবিনেট ‘ন্যাশনাল ফুয়েল সিকিউরিটি প্ল্যান’ গ্রহণ করেছে। দেশের সব প্রান্ত থেকে, সব রাজনৈতিক পক্ষের নেতারা একসঙ্গে কাজ করছেন—অস্ট্রেলিয়াকে সচল রাখতে। আমরা প্রস্তুত থাকছি, যাতে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে, আমরা সমন্বিতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারি।

আজ আমরা জ্বালানি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। প্রতি লিটার পেট্রোলে কর ২৬ সেন্ট কমানো হয়েছে। এই সাশ্রয় ইতিমধ্যেই পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে। আমাদের ট্রাকচালকদের জন্য, আমরা হেভি ভেহিকল রোড ইউজার চার্জ শূন্যে নামিয়ে এনেছি। এই দুটি ব্যবস্থা আগামী তিন মাস কার্যকর থাকবে। আমরা জ্বালানির দাম কমানোর জন্য কাজ করছি। দেশের ভেতরে আরও জ্বালানি উৎপাদন করতে এবং তা সংরক্ষণে রাখতে কাজ করছি। এবং আমাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যবহার করে আরও পেট্রোল, ডিজেল এবং সার আমদানি করছি।

এখন, অস্ট্রেলিয়ানদের স্বভাবই হলো—নিজের দায়িত্ব পালন করা। আর এর কিছু সহজ উপায় আছে। আপনারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করুন। আপনার ইস্টার উপভোগ করুন। যদি কোথাও যান, প্রয়োজনের বেশি জ্বালানি নেবেন না—স্বাভাবিক মতোই ট্যাংক ভরুন।

আপনার সম্প্রদায়ের অন্যদের কথা ভাবুন—গ্রামাঞ্চলে যারা আছেন এবং জরুরি শিল্পে যারা কাজ করছেন। এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে, যদি সম্ভব হয়, কর্মস্থলে যেতে ট্রেন, বাস বা ট্রাম ব্যবহার করুন। এতে আমাদের মজুদ বাড়বে এবং যাদের গাড়ি চালানো ছাড়া উপায় নেই, তাদের জন্য জ্বালানি সংরক্ষিত থাকবে। যেমন—কৃষক, খনি শ্রমিক, কারিগর—যাদের প্রতিদিন ডিজেল দরকার। এবং সেই সব শিফট কর্মী ও নার্স, যারা আমাদের দেশের জন্য অনেক কিছু করেন।

আগামী কয়েক মাস সহজ নাও হতে পারে। আমি সেটা স্পষ্টভাবে বলতে চাই। কোনো সরকারই এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপ পুরোপুরি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি—আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব অস্ট্রেলিয়াকে এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে। এগুলো অনিশ্চিত সময়। কিন্তু আমি এক বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত: আমরা এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব অস্ট্রেলিয়ানদের মতো করেই— একসঙ্গে কাজ করে এবং একে অপরের যত্ন নিয়ে। যেমন আমরা সবসময় করে এসেছি। ধন্যবাদ এবং শুভরাত্রি।