রায়হান সাদ ফেরদৌসী (রুনী) : ১৯৭১ সনে আমি আমার ছোট দুই বোন সহ ভারতেশ্বরী হোমস বোর্ডিং স্কুলে থেকে পড়াশোনা করতাম। আমরা আট ভাই বোন। আমাদের ছোট ভাইকে জন্ম দিয়ে আমাদের দুঃখিনী মা না ফেরার দেশে চলে যান।
আব্বা তখন তেজগাঁ পলিটেকনিক গার্লস স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন। আমাদেরকে দেখাশোনা করা আব্বার পক্ষে বেশ কঠিন ছিল বলেই ভারতেশ্বরী হোমসে আমাদের তিনজনের ভর্তি হওয়া। হোমসের নিয়মকানুন বেশ কড়া, সারাদিন বেলের ঘন্টা অনুসরণ করে চলতে হতো। ঘুম থেকে ওঠার ঘন্টা, খাবারের ঘন্টা, ড্রিলের ঘন্টা, ক্লাসের ঘন্টা ইত্যাদি।
১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বাদশ শ্রেণীর মেয়েরা স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে এবং পাকিস্তানী অপশাসনের বিরুদ্ধে (তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের অংশগ্রহণে) একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিল। সকাল দশটায় আবাসিক পোশাক পরিধান করে ছোট থেকে বড় সারিবদ্ধ হয়ে আমরা মাঠে জড়ো হই। দারোয়ান ভাইয়ের নিষেধ অমান্য করে উঁচু শ্রেণীর ছাত্রীরা গেট খুলে দিলেন এবং আমরা সবাই মুক্ত বিহঙ্গীর মতো দলে দলে বের হয়ে গেলাম। রোগীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা কুমুদিনি হাসপাতালের কাছে স্লোগান দেয়া থেকে বিরত ছিলাম। উত্তেজনা ও উদ্দীপনায় স্লোগানে প্রকম্পিত করে আমরা মির্জাপুর বাস স্ট্যান্ড ও থানার আশপাশ দিয়ে ঘুরে হোমসে ফেরত আসলাম। আমাদের স্লোগান গুলো ছিল ১. তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা ২. পশ্চিমাদের বুকে লাথি মারো পূর্ব বাংলা স্বাধীন কর ৩. তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব ৪. জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো ৫. জয় বাংলা এটাই ছিল পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। এই মিছিলে ক্ষুদ্র একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমি আজও গর্ববোধ করি।
নিয়ম ভঙ্গের শাস্তি আমাদের ভোগ করতে হয়নি কারণ হোমস কর্তৃপক্ষও স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের নীরব সমর্থক ছিল। জনদরদী রনদা প্রসাদ সাহা ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনি হাসপাতাল ও দেবেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি সারাজীবন দেশ ও দশের সেবা করেছেন নিঃস্বার্থভাবে। ১৯৭১ সনের ৭ই মে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা এই মহামানব এবং উনার একমাত্র ছেলে ভবানীপ্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এই খবরটি আমাদের জন্য ছিল অনেক বেদনাদায়ক। এই মহামানবের প্রতিষ্ঠিত ভারতেশ্বরী হোমসের কারণেই আমরা তিন বোন আজ উচ্চশিক্ষিত এবং সু প্রতিষ্ঠিত। এই মহামানবের কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ।
এলো ৭ই মার্চ। রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) থেকে বঙ্গবন্ধু বজ্রকন্ঠে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি জাতিকে যার যা আছে তা নিয়ে শত্রু মোকাবেলা করার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানালেন।
কর্তৃপক্ষ হোমস বন্ধ ঘোষণা করলে আব্বা আমাদের তিন বোনকে বাসায় নিয়ে আসলেন। হঠাৎ করে বাড়ি যাচ্ছি আমরা, তিন বোন মহা খুশি। আব্বা তখন বদলি হয়ে মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে চলে এসেছেন। স্কুল ক্যাম্পাসে তিন নম্বর বিল্ডিংয়ে আব্বা কোয়ার্টার (বাসা) পেয়েছিলেন। উনিশে মার্চ আকস্মিকভাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী জয়দেবপুরের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট কে নিরস্ত্র করার জন্য আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য আপামর জনসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সময় চারজন শহীদ হন এবং আরও অনেকে আহত হন। এটাই ছিলো মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। ভুট্টোর প্ররোচনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সনের নির্বাচনের রায় না মেনে সংলাপের নামে ঢাকায় আসেন। ২৫শে মার্চ রাতে সংলাপ ভেঙে দিয়ে ইয়াহিয়া খান ইসলামাবাদে ফিরে যান। পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতের পরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকবাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
শুরু হল গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ। চারিদিকে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। আব্বা কি করবেন ঠিক ভেবে পাচ্ছিলেন না। বাসার সব বাতি বন্ধ করে দিলেন আব্বা। হঠাৎ দরজায় শব্দ। শিক্ষকদের কিছু ছেলে হাতে লাঠি, ব্যাট, হকি ষ্টিক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা জানালো আমরা যেন স্কুলের হল রুমে চলে যাই। কারণ রাতে সেনাবাহিনী বা তাদের দোসররা কোয়ার্টার আক্রমন করতে পারে। আমার বড় ভাইও দরজার হাইসা নিয়ে ওদের সাথে চলে গেল। আব্বাও ওকে বাধা দিলেন না। কোয়ার্টারের সবাই বাসা ছেড়ে নিচে নেমে এলো। আমরা যখন মাঠ পাড়ি দিচ্ছি তখন বেশ গোলাগুলি হচ্ছিল। আমরা মাথা নিচু করে হাঁটছিলাম। ভয়ে আতঙ্কে পা থেমে যাচ্ছিল। আব্বা এক সময় আমাদের ছোট বোনকে তার ঘাড়ে তুলে নিলেন, আমরা হলে এলাম। হলে ছোট-বড় অনেক মানুষ। আমরা মাদুর বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম, ভাইয়ারা পালা করে পাহারা দিচ্ছে হাতে লাঠি সোটা নিয়ে। রাতেই কারফিউ জারি করা হলো। ছাব্বিশে মার্চ শুক্রবার জুম্মার নামাজের জন্য ২ ঘন্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলো।
মডেল স্কুলের মাইক্রোবাস দিয়ে যে যেখানে যেতে চায় সেখানে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। আব্বা নারায়ণগঞ্জে দুলাভাইয়ের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কিন্তু মাইক্রোবাস আমাদেরকে সায়েদাবাদ ব্রিজের কাছে নামিয়ে দিল। কোন যানবাহন নাই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল এই অবস্থায় আমরা হেঁটে সায়দাবাদেই আমার দুঃসম্পর্কের এক খালাতো বোনের বাসায় চলে এলাম। ওখানে জানতে পারলাম আমার বড় আপা ও দুলাভাই দুই মেয়ে সহ নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজ বাড়ি করোটিয়া চলে গেছেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য আব্বা আমাদের দুই ভাইকে সাথে নিয়ে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল কোয়ার্টারের বাসায় যান। আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের শিক্ষক উর্দুভাষী কলিম সাহেব আব্বাকে দেরি না করে বাসা ছেড়ে চলে যেতে পরামর্শ দেন। কারণ ওখানে নিরাপদ নয়, আব্বা ও দুই ভাই এই যাত্রায় নিরাপদে সায়েদাবাদে ফিরে আসেন। আব্বা সায়দাবাদ থেকে আমাদের তিন বোন ও দুই ভাইকে নিয়ে করোটিয়ায় আমার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন।
এপ্রিলের মাঝামাঝি টিক্কা খান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন আব্বা আমার সেজ ভাই দুলালকে সাথে নিয়ে আবারও পরিস্থিতি বোঝার উদ্দেশ্যে ও ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কারণ দেখিয়ে ২৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরে যান। কিন্তু আমার আব্বা ও সেজ ভাই দুলাল আর ফিরে আসেননি। আমার দুলাভাই আব্বা ও দুলালের খোঁজে মোহাম্মদপুরে যান, দেখতে পান বাসার দরজা খোলা, সবকিছু লুট হয়ে গেছে।
প্রতিবেশী কলিম সাহেব জানান যে আমার আব্বাও দুলালকে মেরে ফেলা হয়েছে। কলিম সাহেব আমার আব্বাও দুলালের মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। আব্বার দুলালের মৃত্যু সংবাদে দুলাভাই নির্বাক হয়ে থর থর করে কাঁপছিলেন। করিম সাহেব নিরাপত্তার জন্য তৎক্ষনাত দুলাভাইয়ের সহযাত্রী হয়ে ফিরতি বেবীট্যাক্সী করে গুলিস্তান (নারায়নগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড) পর্যন্ত পৌঁছে দেন। করোটিয়ায় আপার শ্বশুরবাড়িতে তখন কোন পুরুষ মানুষ ছিল না একদিন দুইজন বাঙালি সহ তিনজন মিলিশিয়া বাড়িতে এলো চা খাবে বলে। বাজারে আগুন দিয়ে চা দোকানসহ সব দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই বাঙালি দুজন হয়তো জানতো মাওইমা সকালে চা পান করেন। মাওইমা বড়আপা ও উনার মেয়েকে ধান চালের মুটকিতে ঢুকিয়ে দিলেন। আমাদের তিন বোনকে খাটের নিচে শুয়ে দিলেন। ভাগ্নি তো আমাদের সাথে খাটের নিচে শুয়ে ভয়ে আতঙ্কে প্রস্রাব করে দিল, আমরা ভিজে গেলাম তবুও ভয়ে চুপ করে ছিলাম। ওরা চা পান করে পরে চলে গেল। মাওইমা উর্দু বলতে পারতেন এবার আমরা রক্ষা পেলাম।
করোটিয়ায় এক প্রতিবেশী দম্পতি দেড় বছরের শিশুকন্যা নিয়ে বাস করত। মুক্তিযুদ্ধের আহবানে সাড়া দিয়ে সংসারের পুরুষটি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে। একদিন শোনা গেল মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গেছে। কিছুদিন পর শাহাদাত কলেজে খালের পারে ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর বীভৎস লাশ পাওয়া গেল। মাওইমা থমকে গেলেন। উনি বুঝতে পারলেন করোটিয়া আর নিরাপদ নয় মাওইমা ওই মুক্তিযোদ্ধার শিশু কন্যা ও নিজের মেয়েকে নিয়ে উনার বড় ছেলের বাসায় ফরাশগঞ্জ চলে গেলেন। আমাদের দুলাভাই আমাদেরকে নারায়ণগঞ্জে জামতলার বাসায় নিয়ে গেলেন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ৬:০০ টা পর্যন্ত কারফিউ, রাতে ব্লাকআউট। এ্ক রাতে বড় আপা বাচ্চার জন্য দুধ বানাতে দরজা খুলে রান্নাঘরে গেলেন, রাস্তা থেকে মিলিটারিরা ঘরের লাইট দেখে ফেলে। কিছুক্ষণ পর দরজায় লাথির শব্দ। এই- “কামলিওয়ালা দরওয়াজা খোল” বড় আপা আমাদেরকে খাটের নিচে চলে যেতে বললেন। দুলাভাই দরজা খুলে দিলেন, বাচ্চা তখনো কাঁদছে দুধের জন্য। বালবটার চারিদিকে কাগজ দিয়ে পেঁচানো ছিল যাতে আলো বাইরে না যায়। ওরা দুলাভাইকে ডেকে নিয়ে গেল। আমরা চার বোন অসহায়ের মত একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম। বড় আপা দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাচ্চাকে ফিডারে দুধ খাওয়াতে গেলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক পর দুলাভাই ফিরে এলেন বড় আপাকে জড়িয়ে ধরে উনি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলেন। দুধ বানানোর ছোট চামচ দিয়ে দুই পাটির দাঁত খোলা হলো। মুদির দোকানদারের জন্যই এই যাত্রায় দুলাভাই বেঁচে গেলেন। “দুলাভাই একজন সাচ্চা মুসলমান, উনি মুক্তি নন। এবং উনি সহসাই রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিবেন” এইসব কথা মুদি দোকানদার বলায় মিলিটাররা দুলাভাইকে ছেড়ে দেয়। ৯ থেকে ১০ বছরের একটি মেয়ে রোজ বাসায় দুধ দিয়ে যেত। একদিন সে মেয়েটি আসে নাই, বেলা বারোটা বেজে গেল তবুও দেখা নাই, দুলাভাই ওদের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখতে পেলেন নরেশদা এবং মহেশ দা মাটিতে পড়ে আছে। গরু দুটো হাম্বা হাম্বা করছে, সারা বাড়ি তছনছ। পাশেই তোলারাম কলেজের প্রিন্সিপালের বাসা। প্রিন্সিপাল জানালেন গত রাতে মা সহ মেয়েকে আর্মিরা ধরে নিয়ে গেছে। সেই রাতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো জামতলায় আর নয়। আমরা আমলাপাড়া চলে এলাম। বড় আপার ননদের বাসায়। বাসাটা বড় রাস্তা থেকে একটু ভিতরে ছিল। বড় আপার ননদের বাসায় উনার দুই বাচ্চা সহ ভাসুরের মেয়ে ছিল, আমরা সবাই মিলে বেশ কয়েকজন। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দুর্লভ ছিলো। একদিন কেরোসিনের অভাবে শাড়ি পুড়িয়ে পানি গরম করে বাচ্চার দুধ বানানো হয়েছিল।
১৬ই ডিসেম্বর খুব ভোরে বাচ্চা উঠে দুধের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দিল। বড় আপা আমাকে বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে হাঁটতে বললেন। হৈ চৈ এর শব্দ। জয় বাংলার জয়ধ্বনি কানে আসছে। কৌতূহলবশত আমি সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে দেখলাম পুকুরের পাড়ে তিনটা লাশ পড়ে আছে। ট্রাক মাইক্রো ইত্যাদি যানবাহনে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে মুক্তিবাহিনী জয় বার্তা পৌছে দিচ্ছে। সবাই ঘুম থেকে উঠে ছাদে বা রাস্তায় চলে গেল মুক্তির স্বাধ নিতে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস প্রকাশ করতে। বড় আপা বাসা বদল করতে চাননি, যদি আব্বা ও দুলাল ফিরে এসে আমাদেরকে না খুঁজে পায়। রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে খুজেছি কিন্তু কোথাও আব্বা এবং দুলালের লাশ পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আমরা তিন বোন হোমসে ফেরৎ যাই। যাদেরকে আমরা হারিয়েছি তারা তো আর ফিরে আসবেন না। আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। লাল সবুজের পতাকা আমাদের গর্ব, অহংকার। আসুন সবাই মিলে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। যেখানেই থাকুন যে অবস্থায় থাকুন দেশকে ভালবাসুন এবং দেশের সঙ্গেই থাকুন।